Saturday, August 17, 2024

নৃশংস খুনি, ধর্ষন কারীদের শাস্তি চাইতে হবে, দেশবাসীকে রাস্তায় নামতে হবে?

এর চেয়ে বড় অপমান 
আর কি হতে পারে বলুন তো, ভারতমাতার জন্য?
সবচেয়ে বড়ো অবাক করা ব্যাপারই হচ্ছে 
এই যে একটা স্বাধীন দেশে নৃশংস জানোয়ার দের বিচার চাইতে দেশের মানুষকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে, আন্দোলন করতে হচ্ছে!
প্রশ্ন: একটা স্বাধীন দেশে সঠিক বিচার চাইতে হবে কেন?
দোষী দোষ করেছে, তার জন্য আইন আইনের মত সঠিক নিরপেক্ষ বিচার করবে এটাই যেন অস্বাভাবিক আজকের দিনে পৃথীবির সমস্ত কোনায়!
কিন্তু কেন বলুন তো? এমনটা কেন?
ছোট বেলায় কোথাও শুনেছিলেন "জোড় যার মূলুক তার"
বড়ো হয়ে ওঠার রাস্তায় অনেকেই শিখিয়েছে এমনটা আজকের দিনে হয়না আগে হতো ।
তবে আজ দেখুন সেই "জোড় যার মূলুক তার" ব্যাপারটাই সব চেয়ে বড় সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সমস্ত যায়গায় ।
আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ সাহসী শহীদ বীর দের ত্যাগের পরিণাম কে আমরা এভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি??
সত্যিই আমি মনে করি এর থেকে বড়ো লজ্জা আর কিছু হয়না একটা দেশের জন্য ।
আগে জমিদারেরা লুট, অত্যাচার করত আজ সরকার করে যাচ্ছে,
কখনও ডাইরেক্ট ট্যাক্সের দোহাই দিয়ে কখনও ইনডাইরেক্ট ।
আর এদিকে একটা নৃশংস খুন, ধর্ষনের মত কুকর্মের শাস্তি চাইতে হচ্ছে ভিক্ষার ন্যায়?
কেন এমনটা হচ্ছে বলুন তো? এসবই কি বাস্তবের নিয়ম আদৌ!
এসবই কি দেখার ছিল ৭৮ বছরের স্বাধীন একটা দেশে?

দোষী দের শাস্তি চাইনা 
বরং এমন সরকারই চাইনা যারা দোষী দের টাকায় নিজের খিদে মেটায় ভিক্ষে নিয়ে আর ভোটের আগে মানুষ কেনে ।
শাস্তি দিতেই হবে, এটাই হোক স্লোগান ।
শুধুমাএ এই একটা ঘটনার বলে নয় সমস্ত অন্যায়ের সঠিক এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে ।

Wednesday, July 12, 2023

পঁচিশ বছরের জীবন যেন রোজকার রূপকথা কখনও বা বিরক্তিকর ইউটিউবের একটা অ্যাড যা স্কিপ করা যায়না ।


জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিন ।

২৫ টা বছরের পূর্ণতা, এই পূর্ণতার সাথে সাথে আমি নিজেকে যেন অনেক কিছুতেই অপরিপূর্ন খুঁজে পাই, অনেক গুলো প্রশ্নের জবাবে শুধু নির্বাক তাকিয়ে থাকতে দেখি ।
জানিনা কেমন এই অপরিপূর্নতা অনেকটা তৃষ্ণার্ত লোকের জল পান করতে নারাজ করে দেওয়ায় মত যেন ।

দাড়িয়ে রয়েছি এমন একটা সময়ের মুখে যখন অনেকে সাফল্যের সীমানার পৌছে গিয়েও গোমড়া মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে আমার নিজস্বতা যেন আমাকেই লজ্যা দিতে বাধ্য।
সু-প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ারের স্বপ্ন এবং অর্জনগুলিতে ভরা জীবন নিয়ে এক অন্য পথ চলা এসবই তো জীবনের অঙ্গ তাই নয় কি ! আর যাইহোক, আমি আমার পছন্দগুলি নিয়ে প্রশ্ন করে চলেছি এবং কীভাবে এমন ভবিষ্যতের দিকে নিজেকে নিয়ে এগোতে পারবো যেগুলো আমার আনন্দ, পরিপূর্ণতা এবং স্থিতিশীলতার আঁচ দেবে ।

তবে বেকারত্বই যেন বর্তমানে নিজের জীবনের উপর একটি ভারী ছায়া, যা প্রতিদিন একটি চড়াই যুদ্ধের মতো অনুভূত হয় ।
হতাশা থেকে আত্ম-সন্দেহ পর্যন্ত বিভিন্ন আবেগের প্রকাশ, যেভাবে আমাদের দক্ষতা, মূল্য এবং আমরা যা পছন্দ করি তা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারি তেমনই নির্দিষ্ট বয়সের দ্বারা নির্দিষ্ট মাইলফলক এবং অর্থ উপার্জনের সামাজিক চাপও এই অনুভূতিগুলোকে আরই প্রশস্ত করে ।

জীবনের এই মুহুর্তে, আমাদের সত্যি আবেগ এবং আকাঙ্ক্ষা গুলির বিরতি দেওয়া এবং প্রতিবিম্বিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে । বেকারত্ব আমাদের দক্ষতা, আগ্রহ এবং লক্ষ্যগুলি পুনরায় মূল্যায়ন করার সুযোগ দেয় আর নতুন সুযোগ গুলিকেও অন্বেষণ করার, নতুন জ্ঞান অর্জন করার এবং সম্ভবত আমাদের জন্মগত প্রতিভা এবং আকাঙ্ক্ষার সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সারিবদ্ধ হওয়া একটি ভিন্ন ক্যারিয়ারের পথ বিবেচনা করার সময় ।
তবে এসব বুঝতে বুঝতেই যেন জীবনের অনেক গুলো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে গিয়েছে ।

তারপরেও হতাশায় ডুবে যাওয়ার পরিবর্তে, আমার হয়তো এই সময়কাল টিকে ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং স্ব-উন্নতির জন্য উপযুক্ত সময় হিসাবে দেখা দরকার ।
আমি খুব ভালো করেই জানি যে জীবন কোনও পূর্বনির্ধারিত ফিনিস লাইনের প্রতিযোগিতা নয় । প্রতিটি ব্যক্তির যাত্রা অনন্য, এবং অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করার প্রলোভন প্রতিরোধ করা অপরিহার্য ।

আজ, আমি আমার ২৫তম জন্মদিন উদযাপন করার সাথে সাথে আমি বেকারত্ব এবং অসম্পূর্ণ শুভেচ্ছার চ্যালেঞ্জ গুলি স্বীকার করছি । নিজের ব্যক্তিগত বৃদ্ধি, উদ্দেশ্য পুনরায় আবিষ্কার এবং সুখের সন্ধানের সুযোগকেও আলিঙ্গন করছি । আমি স্বীকার করছি যে সাফল্যটি কেবলমাত্র সামাজিক মান দ্বারা পরিমাপ করা হয় না তবে বড় এবং ছোট উভয় কৃতিত্বের মধ্যে আনন্দ, তৃপ্তি এবং পরিপূর্ণতা খুঁজে পাওয়া আমার নিজস্ব ক্ষমতা দ্বারা এগিয়ে যাওয়া, স্থিতিস্থাপক থাকা এবং সামনে থাকা সম্ভাবনা গুলির সন্ধান করা আমার সংকল্প, আমি এমন ভবিষ্যতের সন্ধান করছি যেখানে আমি সত্যিই নিজেকে উপভোগ করতে পারি আর জীবন নামক এই সুন্দর যাত্রা কেও ।।

Tuesday, January 10, 2023

একটা সময় মানুষ নিজেকে সামলে নিয়ে এগিয়ে চলতে শিখে যায় ।

বড্ড বোকার মতো প্রশ্ন করিস তুই !
মনে হয় আগের থেকেও বেশি গাম্ভীর্যতার আঁচ লেগেছে,
আমি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পরেও তুই এমন ভাবে নিজেকে এতোটা বেসামাল করে রাখবি ভাবিনি কখনও।
ভেবেছিলাম অন্তত আমার ওপর রাগ করেই কিছু একটা করবি
ভেবেছিলাম নতুন ভাবে নতুন পথের খোঁজ শুরু করবি ।
কিচ্ছু করিসনি তুই, কিছুই না বড্ড বোকার স্বর্গে পৌঁছে গিয়েছিস আরই ।
জানিনা কিসের এত শত রাগ অভিমান আর গাম্ভীর্যতা তোর।

আজ প্রায় পাঁচ বছর পরে একটা কফি হাউজে আবার দুজনের চোখে চোখ পরে,
যদিও স্পর্শ হয়তো চায়নি আর কোনোদিনও আমাদের দেখা বা কথা হোক ।
সে একবার তাকিয়েই মুখ ফিরিয়ে কফি হাউজের থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে,
কুয়াশাচ্ছন্ন দার্জিলিং এর সকাল আর একটু দূরে গেলেই
আবছা হয়ে যাবে স্পর্শ, আমি ঠিক করি আজ এত গুলো বছর পর অন্তত কথা বলাটা উচিৎ ছেলেটা আজও রাগ করে আছে ।
আর যাই হোক দুজনে মিলে অনেক গুলো ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছি একসময় আজ যদি পাঁচটা বছর পর দেখা হয়ে গেল কেন নয় একবার জিজ্ঞেস করি কেমন আছে সে ।
জানি হয়তো গভীর ভাবে আমার ওপর অভিমানী নাহলে এভাবে কেউ সকাল সকালে কফি হাউজ থেকে বেড়িয়ে যায় শুধু একজনকে দেখেই !!
বড্ড খারাপ লাগছে আমার, নিজেকে থামাতে না পেরে পিছু করতে শুরু করি স্পর্শের 
দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে ওর ডান হাত টা ধরে বলি শোন না,
সে আর মুখ ফিরেও তাকাতে চায়না,
সেভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়েই প্রশ্ন করলো হঠাৎ এভাবে হাত ধরে নেয়া টা মনে হয়না ঠিক হচ্ছেনা, এভাবে রাস্তার মাঝে !!
প্লিস ছেরে দাও হাত টা আমায় যেতে হবে ।
একটু সময় হবে কথা বলতাম, পাঁচ বছর পর আমাদের এই প্রথমবারের দেখাতে অন্তত একসাথে এক কাপ কফি খাওয়াই যায়,
তাছারা আমি এটাও চাইনা কেউ আমার জন্যে সকালের চা না খেয়ে বেড়িয়ে যাক কফি হাউজ থেকে ।
আমার খারাপ লাগছে ছেরে দাও প্লিস আমি কিচ্ছু বলতে চাইনা তোমাকে আর আমি কারোর জন্যেই কফি হাউজ ছেরে যাচ্ছিনা কে হয়ে যাবে ভেবে রিটার্ন করছি ।
বেশ ঠিক আছে তবে আমি রিকুয়েস্ট করছি আজ প্লিস কতদিন হলো একবার ভূল করেও আমাদের দেখা হয়নি তো প্লিস ইয়ার ছারনা রাগ, আমি ওর হাত ছেড়ে দিয়ে সামনে গিয়ে দাড়াই ওর চোখের দিকে তাকাতেই দেখি ওর দুটো চোখ থেকে জল ঝরে পরছে,
আমি নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও পারিনা
নিজেকে ক্ষমা করতেও সাহস হচ্ছেনা,
আমার সহজে কোনো কিছুতেই অত বেশি খারাপ লাগেনা
তবে আজ একজন কে দেখে এভাবে নিজেকে কেমন পাপী মনে হচ্ছে ছেলেটা এত গুলো বছর আমার জন্যে মন খারাপ করে রেখেছে আর আমি স্বার্থপরের মত শুধু ইগনোর করে গেছি ।
ভাবলাম ওকে জড়িয়ে ধরে বলি ভালোবাসি তোকে প্লিস কান্না করিসনা সরি রে সরি প্লিস পারলে ক্ষমা করিস,
ভেজা গলায় বলে আমি চাই তুমি চলে যাও আর আমাকেও যেতে দাও ।
হাতটা ধরলাম আবার, ভেজা সকালে চোখের জল যেন মুছে গিয়েছে
কফি হাউজের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম সেও যেন শান্ত ভাবে আসছিল আমার সাথে,
জানতাম ও শান্ত হয়ে যাবে কিন্তূ তবে এতোটা গম্ভীর হয়ে গেছে সে এক দেখা না হলে জানতাম না ।
আমি দুটো কফি আর কিছু স্নাক্স অর্ডার করলাম ও তাকিয়ে আছে জানলার দিকে,
আমিও আর কিছুই বললাম না, কফিও চলে আসলো দুজনে চুপচাপ কফি শেষ করলাম ও একবারও আমার দিকে তাকালো না জানি কি চলছে ওর ভেতরে ।
ও তাড়াহুড়ো করে গিয়ে কার্ড থেকে পেমেন্ট করে দিলো আমিও বাধা দিতে গেলাম না,
একসাথে বাইরে বের হলাম কফি হাউজ থেকে
সব কিছু ভুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এখানেই থাকছিস মনে হচ্ছে !
না প্রায় দেড় মাস মতন আছি স্পর্শ উত্তর দিলো
ভালো আছিস তুই !
হ্যাঁ খারাপ থাকার কোনো কারন তো নেই ।
হমম অবশ্যই,
অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছিস তুই রে আগের থেকে আরও গম্ভীর হয়ে গিয়েছিস,
না আজকাল আর উত্তর দিতে ইচ্ছে করেনা,
কোনো সম্পর্কে আছিস নাকী ফরেভার সিঙ্গেল থাকার ইচ্ছে নিয়েই ঘুরছিস ।
আপাতত একার অস্তিত্ব টাকেই ভালবাসি অন্তত ছেরে তো যাবেনা আমাকে ।
ওহ ভালোই, বলে জড়িয়ে ধরলাম ওকে বললাম পারলে ক্ষমা করিস আমাকে
সে কোনো রিয়াকশনই দিলনা, বরং বললো আমি কাউকে ক্ষমা করার মতো পর্যায়ে আজ অব্দি রাখিনি কাউকেই, এতোটা নিচুতে রাখিনি ।
আর আমি তোমার ওপর রাগ করেও নেই অতএব ক্ষমা করার কোনো প্রশ্নই নেই, প্লিস নিজেকে দোষী মনে করোনা ।
আচ্ছা ফোন নম্বর টা সেভ আছে আমার !
হ্যাঁ ডিলেট করার দরকার পরেনি কোনোদিন।
তোর নম্বর টা দিবি আমাকে কথা বলতে চাই আবার !
নতুন একটা ফ্রেন্ডশিপ করাই তো যায়,
সে কিছু উত্তর না দিয়েই ফোনটা রিসিভ করে হাত দেখিয়ে চলে গেল।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম, হয়তো এভাবেই একজন পিছনে পরে থাকার মানুষও নিজেকে সামলে নিয়ে তোমাকেই পেছনে ফেলে দেবে একটা দিন ।
আমি আমার কাজ শেষ না করেই বাড়ি ফিরলাম উদাসীন এক মানসিকতা কে সাথে নিয়ে ।



এ যেন শুরুর আগে শেষ টা দেখা বাকী !!

আবার অনেকদিন হলো কাজ ছেড়েছি,
নতুন খোঁজেই বলা যায় বিদেয় নিয়েছি অন্য একটা কারণ
বলতে গেলে বলা যায় নিজের ব্যক্তিগত সন্তষ্টি ব্যপার টা ছিলই না এই কাজে ।
প্রায় 10-11 মাস হতে চললো নিজেকে সামলে রাখতে পারছিনা
এখন আবার মনে হচ্ছে আমি সত্যিই আজব, নিজেকে প্রশ্ন করে নিজেই নিজেকে উত্তর দিতে ভয় পাচ্ছি,
পাইনা শুধু উত্তর ।
অনেক গুলো জায়গায় ইন্টারভিউ চললো কোথাও আমার
পোষালো না তো আবার কোথাও আমাকে তাদের পোষায়নি !
E-mail এর পর E-mail, assignment এসব নিয়েই ব্যাস্ত জীবন যেন ।
পাশাপাশি চলছে অনেক কিছুই পাওয়া না পাওয়ার কাব্য লেখা,
শুধু স্থীর ভাবে দাড়ানোর মতো একটা স্পষ্ট ঠাই বাদে ।
কত কিছুর আনাগোনা, আদান প্রদানের মধ্যেই একরকম এগিয়ে
চলা যেন জীবনের নতুন উপলব্ধি ।
অভাবীর মতো তাকিয়ে আকাশ দেখি আমি,
জানিনা কিসের অভাব কোথায় এর পরিপূর্ণতা !
সবে একাকীত্ব টাকে আমি বুঝতে শিখেছি আর এই ভালো লাগার
শুরুতেই যেন শেষ হয়ে সব কিছু নিস্তব্ধ হয়ে পড়ল ।
কি শিখলাম কেন শিখলাম আগামীকে কীভাবে দেখলাম
কিছুই স্পষ্ট ভাবে নজরে পড়ছেনা আজ,
আগুনের ছোঁয়া না পেতেই এই শীতের রাতে আমি ঘেমে কর্দমাক্ত
হয়ে নিজেকে শীতল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাই ।
বুঝে ওঠার আগেই ঘুমিয়ে পরি, রাত দুপুরে মিউজিক প্লেয়ারে স্লিপিং টাইম দিয়ে আবার ঘুমনোর চেষ্টা করছি ।
কত লেখা চারিদিকে আমার সময় অনেক
তবুও সময় নেই নিজের জন্যে,
একাকী বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে রাস্তা শেষে
অন্য রাস্তার শুরুর অপেক্ষা যেন ।
এই তো শুরুর আগে শেষ টা দেখার বাকী তাই নয় কি !!

Tuesday, December 27, 2022

দুইটা মানুষ

দুজনেই প্রায় সমান অবস্থানের,
তবে একজনের ক্ষমতা একটু বেশি অন্যজনের তুলনায় ।
যেটা অস্বাভাবিকের মত কিছুই নয়,
তার সত্বেও যে মানুষটি কম ক্ষমতাবান সেই মানুষটিকেই
শুধু দেখি নিজের সমস্ত কিছুকে তুচ্ছ করে নিজের
দায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, না পারলেও করছে,
হ্যাঁ নিজের সমস্ত কিছুকে তুচ্ছ করে ।
আর অন্যদিকে যার ক্ষমতা আছে সে চুপটি করে থেকে
সব কিছু দেখছে নির্লজ্জের মত, দিন শেষে ঘরে কি রান্না হবে তার খবর টুকুও রাখেনা ।
চাইলেই তো অনেক কিছু করতে পারে মানুষটা
তবুও ভালো চায়না !!
তার কাছে দায় দায়িত্ব মান মর্যাদার কোনো মূল্য নেই
তাহলে কেউ কেনই বা তাকে সন্মান করবে !!
তবে আমার নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে
এসব কিছু নিজের চোখে দেখে,
নিজেকে প্রশ্ন করছি, আমার কি কিছুই করার নেই !!
অথবা কেন কিছুই করে উঠতে পারছিনা !
এত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিনা আর, গুমরে মরছি কেন !
তারপরেও শুধু এত টুকু বিশ্বাস করতে পারছি হয়তো এতটুকুই আমার চাওয়া পাওয়া,
একদিন আজকের মত অসহায় আর থাকতে
দেবনা এই দিন গুলোকে ।
হ্যাঁ এটা নিশ্চিত জীবনের সব থেকে বড়ো যদি কোনো
উদ্দেশ্য থেকে থাকে তাহলে সেটা হলো
সেই কম ক্ষমতাশীল মানুষটাকে
পৃথিবীর সমস্ত খুশি গুলো এনে দেবার ।

Thursday, December 15, 2022

নিজেকে রাজা ভাবলেই তো আর রাজা হওয়া যায়না !

কিছু মানুষ নিজের সম্মানের জায়গা টাকে সন্মানিত করে রাখতে পারেনা ।
যেভাবে একটা রাজার সিংহাসনে বসলেই যে কেউ রাজা হয়ে যেতে পারেনা কিন্তু ছল চাতুরী করে অবশ্যই সেই সিংহাসন টা আদায় করাই যায় কিন্তু রাজ্যবাসী যতদিন না তাকে মেনে নেবে ততদিন সে একজন আসল রাজা হতে পারেননা তেমনই নিজের সম্মানবোধ টাকেও আদায় করে নিতে হয়, জনগণের ভালো ভেবে, জনগণকে ভালোবেসে, ইতিহাসও সাক্ষী আছে আসল রাজা বলে তিনিই পরিচিত যাকে মানুষ ভক্তি শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারেনা ।
এই মূল্যবান পাওনা কোনোভাবেই জোড়  জবরদস্তি করে পাওয়া যায়না ।
আর তুমি মূর্খের মত সিংহাসনে বসেই নিজেকে রাজা ভাববে
দাপট দেখিয়ে বলবে আমাকে সম্মান দাও আদর কর ;
আর নিজের দায়িত্ব গুলোকে মনে অব্দি রাখবেনা এটা কেউ কি করে মেনে নিতে পারে রাজা মশাই ??
কেউ কি মানবে রাজা মশাই ভাবুন ভাবুন !!
মানছি এক প্রজা খারাপ সে নিজের দায়িত্ব পালন করছেনা কিন্তু একজন রাজা !!
যে নিজের দায়িত্ব পালনের কথা ভাবে না সে অন্যের দিকে আঙুল তুলবে এটা স্বাভাবিক কী করে হয় !!
আগে অন্তত নিজের চরকায় তেল দেওয়া টা উচিৎ নয় কি ??
অন্যদিকে সেই প্রজা জনগণের মাঝে একজন সেই জনগন যাদের
এই যে শুনুন রাজা মশাই,
জনগণকে আগলে রাখার দায়িত্ব টা কিন্তু আপনি নিজেই নিয়েছেন কেউ কিন্তু জোড় জবরদস্তি করে সেই দায়িত্ব গুলো আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়নি মাথায় রাখবেন ।।

যে রাজা মশাই নিজের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম সে জনগণের থেকে সম্মান বা আদরের কোনোটাই আশা করতে পারেনা কিন্তু জনগণ যেহেতু একটু সহানুভূতশীল হয় তাই ওই একটু সম্মান পাচ্ছেন তবুও যদি ভাবেন সেটা পোষাচ্ছে না তাহলে সেই টুকুও পাবার আশা রাখবেন না ভবিষ্যতে ।

এই মানুষটাকে আমি কোনদিনও সম্মান করতে পারবনা,
শুধু আমি বলে নয় সমাজের কোনো মানুষই করবেনা এমন মানুষকে সম্মান ।
শুধু সত্যি টা প্রকাশ্যে আশার দেরী ।।

বি: দ্র: - কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে উদ্দেশ্য করে এসব বলা হয়নি ।
 

Wednesday, October 5, 2022

নীল একটু অন্যরকম কেন !!

নীল বাড়ি ফিরছিল তারা হুরো করে,
আজ দেরী হয়ে গিয়েছে অনেকটা বাড়িতে ওর মা একা ওর অপেক্ষায় ছিল ।
প্রাইভেট কাজে এটা স্বাভাবিক হলেও নীলের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ব ওকে প্রত্যেক দিন এমন দেরী করতে হয়না, আর অভিয়েসলি পার্সোনাল লাইফের সামঞ্জস্য বজায় রাখা টা তার ফার্স্ট প্রায়োরিটিও বটে ।
ওর বস ও ওকে বাধা দেবার সাহস পায়না,
তবে আজকের ঘটনা টা একটু অন্যরকম ছিল নীলের কাছে
সে কোনওদিন ভাবেও নি এমনটা হবে ওর সাথে,
প্রথমে ভীষন শকড হয়ে পড়েছিল ।

আসলে নীল ভীষন ভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে ওর লাইফের সমস্ত কিছুকে প্রাইভেট ভাবে রাখতে শুরু করেছিল প্রায় তিন বছর আগে থেকে এরপর নতুন শুরুর দিকে পা বাড়ায় এবং এই নতুন স্টার্টআপ (B STABLE) কোম্পানি তে অ্যাস আ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে জয়েন করে আর তখন থেকেই যেন ওর জীবনটা অগোছালো থেকে গোছালো হতে শুরু করেছে আর সেই কারনেই
ভীষন গোছালো ওর জীবন, কেউ জানেনা ওর লাইফের বাইরেটা ।
ব্যাক্তিগত ভাবে তো নয়ই এমনকি ওর জন্মদিন টা অব্দি কাউকে জানতে দেয়নি সে,
অফিসের সবার জন্ম দিনের তারিখ একটা নোটিস বোর্ডে লিখা থাকলেও নীল এর টা নেই ।
সে নিজে ম্যানেজার কে বলে ওর নাম টা বাদ দিয়েছে সেই লিস্ট থেকে ।
শুধু অফিসের কাজে যতটুকু জানার সেটুকুই শুধু জানে সবাই, তাছাড়া কাউকে সে আর কাছে আস্তে দেয়নি জানতে দেয়নি ওর লাইফটা কেমন অফিসের বাইরে ।

জীবনে ঘটে যাওয়া পুরনো কিছু ঘটনা যেন তাকে ভীষন রকম সাজিয়েছে নতুন করে ।
তবে এরপরেও কেউ একজন ওর বন্ধু হয়েছে অনেকটা কাছে এসেছে ওর ।
মেয়েটা ওর টিমের প্রধান সদস্য (টিম লিডার) অতএব ডাইরেক্টলি ইনডাইরেক্টলি ওই মেয়েটার সাথে কথা বলতেই হত নীল কে,
এর থেকেই ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব হয় আর সেই দারুণ সুন্দর বন্ধুত্ব টার এই প্রথবারের উদ্যোগ ছিলো নীলকে তার জন্মদিনের সারপ্রাইজ দেবার,
যার কোনরকম প্রত্যাশা নীলের ছিলনা কিন্তু এত সুন্দর ছিলো সারপ্রাইজ টা যে নীল নিজেকে সামলে নিতে পারছিলনা ।

দিনের শেষ টায় কেউ এভাবে তাকে সারপ্রাইজ দিতে পারে কোনোদিনও সে চায়নি বা এক্সপেক্ট ও করেনি কিন্তু হ্যা আজ যেন অফিসের সবাই অন্য একজন নীল কে দেখছিল ।
অবশেষে সবাই থ্যাংকস টা সেই মেয়েটাকে দিল, অভিনন্দন জানালো তাকেও ।

**

Monday, July 4, 2022

মানুষ স্বার্থপরতা টাই বেছে নেয় শুধু

বড্ড স্বার্থপর আমরা সবাই ।
শুধু নিজের ইচ্ছা পূরণের  জন্যে ছুটে বেড়াই,
পেছন ফিরে দেখার অব্দি সময় পাইনা ।
আমাদের কোনো ছোটো ইচ্ছে পূরণের রাস্তায় কেউ পিষে যায়নি তো ?
বড্ড স্বার্থপর আমরা, আবার কখনও তো আমাদের কোনো অদ্ভুত ইচ্ছে পূরণ কারোর নিঃস্ব হয়ে যাবার কারন আর 
সেটা জানা সত্বেও আমরা নিজের ইচ্ছা পূরণের দিকেই একনিষ্ঠ ভাবে তাকিয়ে থাকি ।
কাউকে সম্পূর্ন ভাবে শেষ করতেও ভয় করিনা।
যদিও বা আমাদের আসল করণীয় কর্তব্যে একনিষ্ঠ থাকিনা,
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েও সেসব কাজ করিনা ।
খুব কি দরকার এমন ইচ্ছে গুলো পূরণ করার ?
আজকের দিনে তো কাউকে শেষ করা দেওয়া ব্যাপারটাকেও
রাঙিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে কিছু মানুষের দ্বারা ।
এটাকেও তো একপ্রকার ইচ্ছে পূরণই বলা যায় !!
কারোর ইচ্ছে হয়েছে তাই খুন করেছে একপ্রকার ইচ্ছে পূরণই তো ?
দেখতে দেখতে সব শেষ হয়ে যাবে কিছু জন
মানুষত্য টাকে শেষ হয়ে যেতে দেখবে কখনও ধর্মের নামে মানুষ মানুষকে শেষ করবে আবার কখনও দলীয় বিরোধিতায়।
এক পৃথিবী মানুষের বেশি সংখ্যক যখন নিজের বিনাশ দেখেও অদেখা করে তখন সেই কম সংখ্যক মানুষরা কিই বা করতে পারবে !!
প্রকৃতির শৃঙ্খলার কিচ্ছু বেচেঁ থাকবেনা না তখন তো সবাই স্মরণ করবে ভগবান কে,
ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যতবার পৃথিবীর নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা হয়েছে ততবার পৃথিবীও তার ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চালাতে থেমে থাকেনি ।
এসব কিছুই সবার জানা তারপরেও, মানুষ আসলেই ভূল জেনেও ভূল কাজ করতে একটি বেশিই ভালোবাসে।।

Friday, July 1, 2022

এতটা সস্তা হবার কিই বা দরকার

আমাদের সমাজের দায়িত্ব নিয়ে নিজের সমস্ত কিছু লুটিয়ে দিয়ে অনেকেই আজও খেটে যাচ্ছে কোনরকম প্রত্যাশা ছাড়াই।
তাদের কোনো রকম আশা প্রত্যাশা নেই যে মানুষ তাদের ভালোবাসবে কিনা বা মানুষ তাদের সাহায্যের বিনিময়ে ভবিষ্যতে তাদের নাম করবে কি না বা এমন ধরণের অনেক প্রত্যাশা যার কোনো বিন্দু মাত্র নেই ।
তারপরেও দিনের পর দিন রাতের অন্ধকারে অব্দি নিজের পরিবারের মত করে সমাজের জন্যে কাজ করে যায়।
অন্যদিকে কিছু মানুষ লোক দেখিয়ে দুই টাকা সাহায্য
করলে ব্যাপারটাকে মানুষ ভীষন ইতিবাচক ভাবে নেয় আর সেই সাহায্য করা মানুষটাই পেছন দিয়ে যদি আপনার থেকে একশো টাকাও চুরি করে, আপনার তখন কিচ্ছু যায় আসেনা কারণটা খুবই সিম্পল ।
আপনি কোনওদিন জানতে অব্দি পারবেন না যে আসল চোর টা সেই মানুষটাই যে আপনাকে দুই টাকা দেখিয়ে ভুলিয়েছে নাহলে কি দরকার মানুষ আপনাকে অকারণে দুই টাকা দেবে ?
যদি না তারা আসল সমাজসেবী হয়ে থাকে !!
আর আসল সমাজ সেবিরা ৫ বছরে একবার দেখা দেয়না ।

যখন আপনি বিছানায় পরে থাকেন, অভাব অনটনে দিন যায় তখন কি সেই মানুষটা সাহায্য করেছিল এসে?
যদি না হয় তাহলে জানুন যে ওই মানুষটাই ভোটের আগে আপনাকে দুই টাকা দিয়ে কি করে কিনে নিতে পারে ?
আপনি কি এতটাই সস্তা ?
আর একটা জিনিস ভাবুন একজন নেতা যদি ভোট কিনে নিয়ে ভোটে জিতে নিজের টাকা খরচ করে তাহলে জেতার পর,
জনগণের কাছে আসা টাকা গুলো সে মারবেনা সেটা কি করে ভাবেন তাহলে ?
আপনি অবশ্যই ঘুষ নেওয়ার বিরোধীতা করেন,
আর যদি করেই থাকেন তবে নিজেকে দুই টাকার বিনিময়ে বিক্রি করাটাকে কি বলবেন আপনার ভাষায, জানাবেন কিন্তু ।

ভেবে দেখার সময় জানি নেই কিন্তু কখনও কি দুঃখ হয় একশো টাকা চুরি হয়ে গেলে সরকারের দেওয়া আপনার পাওনা জিনিসগুলো না পাওয়ার ঘটনায় ?
তখন কি আদৌ আপনার ভাবনা গুলো চুপ থাকে ?

হয়তো তখন থাকেনা জানি আর থাকার কথাও নয় কিন্তু ভূল টা কার জানেন তো?? আপনি কোনদিন মানসিকতা নিয়ে ভাবেননি আর তখন শুধু নিজেকেই দোষী মনে করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবেনা ।
তারপরেও অনেকেই সত্যিটা জানতে অব্দি পারেনা তাদের একশো টাকা টা কে চুরি করেছে ।
তাদের পাওনা জিনিসগুলো কেন পেলনা তারা !

সাধারণ মানুষের দিন যে কোনো ভাবে চলে যায় বছরের পর বছর,
আমি আপনি সবাই জানি খেটে খুঁটে দিন কেটে যায় ।
খারাপ ভালো সমস্ত রকম অবস্থায় শুধু পরিবারের এবং আশেপাশের লোকেরা পাশে থাকে বিশেষ করে খারাপ অবস্থায় থাকলে সাহায্যের হাত টা কে বাড়ায়?
অবশ্যই আপনার কোনো অপনজন তাইতো?
তবে ভোটের আগে আপনাকে কেউ একদিনের মাংস ভাত দিয়ে দিলে আপনি কি করে ভূলে যেতে পারেন আপনার নিজের মূল্যবোধ কে ?

চোখে কি পরেনা আপনার সত্যিটা!
এতোটাই লোভী কি আপনি ?
আর আপনি কি সত্যিই এটি সস্তা মূল্যের মানুষ যাকে এভাবে দুই টাকার বিনিময়ে কেনা যায় ।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন,
উত্তর টা হয়তো আপনার অপছন্দের হবে কিন্তু বাস্তব এটাই আপনার নিজস্বতা কে এভাবে বিকিয়ে দেওয়া টা কে কি বলবেন সমাজ বদলানোর পদক্ষেপ !!

সমাজ বদলাবে না এমন চিন্তাধারাকে যতদিন না মানুষ প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবে ।
যতদিন না নিজেকে বিকিয়ে দেওয়া বন্ধ করবে ।

Sunday, October 3, 2021

নতুন পথের সাথী

নতুন অধ্যায়!! রাতের ট্রেন, দূরত্বের পথ যেন দূরত্বের ছিলই না গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়াটাই বিরক্তির ভঙ্গীতে প্রকাশ পেল তার চোখে, সে চেয়েছিল আরেকটু সময় আমার আঙ্গুলে আঙুল রেখে কাটাতে, কাধে মাথা রেখে আরেকটু সময় ঘুমিয়ে নিতে কিন্তু আমি নিজেকে বেসামাল করতে চাইনা আর আবেগে আপ্লুত হয়ে নিজেকে দোষী মনে করতেও চাইনা ।
এবারের পাশে থাকাটাই অন্যরকম লাগছে আমার, বিশ্বাস করতে ভয় করছে আবারও কাউকে, উল্টোদিকে সে সমস্ত অদ্ভুত শর্তে রাজি, স্টেশনে বসে একসাথে সকালের চায়ে চুমুক দিচ্ছি এই প্রথম । মনে হচ্ছে ক্যামেরা বন্দি না করাটাই স্বাভাবিক পুনরায় কারোর অনুপস্থিতিতে তার ছবি দেখে না কাটানোর মত কোনো দিন যেন আর আসেই না সামনে আর সেইটা আগে থেকেই একরকম প্ল্যান করে রাখা ।

নতুন অফিসে জয়েন করার পরে থেকেই আমি যে হোটেলে দুপুরের লাঞ্চ করতে ঢুকতাম সেই হোটেলেই তারও আগমন প্রথম দিন থেকেই আর এই প্রত্যেকদিনের দেখা সাক্ষাৎ টাই আমাদের দুজনকে কাছে আসার উদ্দেশ্য দেয় এবং একটা সময় আমাদের অপরিচিতীর সীমানা টা ভেঙ্গে গেল আর নতুন একজনের বন্ধু হলাম ।
ভীষন সুন্দর এক মেয়ে, আমার অফিসের পাশের অফিস টায় ভালো একটা পদে রয়েছে জেনে ভালই লাগল তার পছন্দ, অপছন্দ এবং আমার কাছে আসার উদ্দেশ্য টাই বা কি ছিল তার ।
আমি এভাবে সবাইকে স্বাগত জানাতে পারিনা কিন্তু এই মেয়েকে না বলতেও পারিনি আর আজ আবারও কারোর অনেক প্রিয় হতে শুরু করলাম জানিনা আবার সেও ছেরে পালাবে কি না কিন্তু প্রীয় মানুষের ছেরে যাবার ভয় টাকে দূর করতে পারছিনা এখনও যদিও জানি একজনের করা কাজের সাথে অন্য কাউকে মেশাতে নেই তারপরেও বিশ্বাস ভাঙার ভয়টা দূর হচ্ছেই না বলা যায় ।

জানিনা সে কেনই বা আমার সাথে মিশতে ব্যাস্ত হয়ে পরল এভাবে, ধীরে ধীরে আরও কাছে আশা আর আমার ভয় বাড়তে থাকা ।
সহজ ভাবে হাসতে হাসতে সময়ের চলে যাওয়া টা ভালো লাগার হলেও কিছু অদ্ভুত ভাবনা চিন্তা আমায় ভীষন ভীত করে রেখেছে । 
ছবির বদলে লেখা গুলোর ডায়রির পেজে স্মৃতিবদ্ধ রাখার প্রস্তুতি ।
পৌঁছে যাওয়া স্টেশন থেকে ৮ কিলোমিটার দূরেই দুজনের ভীষন প্রীয় প্রকৃতির দৃশ্য, আমাদের ডাক দিচ্ছে যেন আর হাঁটা পথে আমাদের এগিয়ে চলা একদিকে গন্তব্য অন্যদিকে আমাদের স্বপ্নীল আগামী ।

Thursday, September 2, 2021

সন্ধ্যে নামলেও ফিরলে না তুমি !!


অবশেষে সেও পালালো আমায় ভীষন একলা করে ।
অন্ধকারের এ পথ চলা যেন শেষই হচ্ছে না,

আজ তোমায় নিয়ে আবার লিখতে হচ্ছে জানিনা এবারে শেষ বলে শেষ লেখা হবে নাকি আবারও লিখতে হবে তোমায় নিয়ে !
জানতো কোনোদিন অসীম সাহসী হতে চাইনি আমি, আগ বাড়িয়ে নিজেকে মহান দেখাতেও কোনোদিন চাইনি তবে আমার দ্বারা কোনো ভুল হলে তাতে নিজেকে দোষী বলতে পিছুপা হতে কোনোদিন শিখিনি কেউ হয়তো শেখায়নি বলেই ।
আগলে রাখা কিছু ডায়রির পাতা আমায় যতটা চেনে ভেবেছিলাম কয়েকবছর আগে যার অনেক কাছের হয়েছি সেও আমায় চিনেছে বোধহয়, ওর প্রত্যেকটা আদুরে স্পর্শ আমায় গভীর ভাবে মত্ত করেছে, পাল্টে যায় নিজেকে অব্দি উপলব্ধি করার  ছন্দ টাও, নিজেকে এভাবে এতটা খুশী হতে কোনোদিন দেখিনি ওর চোখের প্রত্যেকটা পলক মায়াবী মনে হতে শুরু করেছে আমার অজান্তেই ।

নতুন পথের সাথী যেন, যার সঙ্গ ছাড়ার ইচ্ছে করেনি, চাইনি তাকে অজান্তেও আঘাত করতে, চলেছি সামলে নিজেকেই বরং আঘাত হেনে । পথ শেষ হবারই ছিলনা তা অবশ্য স্পষ্ট ছিল তারপরেও জানিনা বেসামাল কথার অর্থ কিছু আলাদাই মনে হয় ওর কাছেও আর সেই ছেরে যাওয়া কোনোদিন ফিরে তাকায়নি ।

আজ সেই তুমিই যদি ঠিক ভুলের কথা বলতেই চাও তাহলে যুক্তি নিয়ে এসো হেরে যাবে কথা দিচ্ছি, তুমি যেভাবে যতবার আমার সাথে প্রতারণা করেছ তার পরিবর্তে তোমার যে অনুশোচনা থাকা উচিত সেটা অব্দি নেই, আমিও বরং সেসব কথায় অভিমান করে নেই, উল্টোদিকে আমি যতটা বড়ো ভুল করিনি তার থেকেও লক্ষ গুন বেশি আঘাত পেতে হচ্ছে এখনও । আমি সহ্য করছি কিন্তু কারণটা কী জানতে চেয়েছ কোনোদিন ? না সেসবে তোমার সময় হবেই বা কেন তুমি তো এখনও মিথ্যে বলো আমায় ব্যাস্ততার অজুহাত দাও, কিন্তু আমি সারাদিনের ব্যাস্ততার শেষেও তোমায় ভুলে যাইনি কেন জানো ??

থাকুক তুমি নাহয় নাইবা জানলে আজ সেসব, সময় জানি সব কিছুর সত্যি টা একদিন ঠিক দেখিয়ে দেয় এর উদাহরন হিসেবে তোমার আজকের পছন্দ কেই বলা যায় একদিন আমি তোমায় বলছিলাম যে কোরিয়ান দের আমার বেশ ভালো লাগে এর জবাবে তুমি কি বলেছিলে মনে আছে? ওরা ছেলেরাও নাকি মেয়ের মতন বুঝিনা আমার বোনের কেন এসব ভালো লাগে ।

আর সেই তুমিই আজ কোরিয়ান ছেলেদের কে অন্য কেউ মেয়েলি বললে রাগ দেখাও
এটা হাস্যকর নয় কী?  জাস্ট একবার নিজেই ভেবে দেখ যে তুমি ঠিক কতটা ভন্ড তবুও তোমায় অপমান করে কোনোদিন বলতে চাইনি তুমি ভন্ড এর মানে তো এটা হতে পারেনা যে তুমি ভুল না বা কেউ তোমার দিকে আঙুল তুললেই তুমি তাকেই উল্টে জিজ্ঞেস করবে "who the hell are you?" আদৌ এভাবে কি নিজেকে সন্মান দেখানো হয় ?

তোমার নামে অভিযোগ করলেই তুমি রাগ দেখাবে, অভিমান করবে কিন্তু সত্যি টা পাল্টে যাবে এতে ?
নিজের ভুলটা স্বীকার করার ক্ষমতা কেন নেই তোমার !! এই সামান্য সাহসটুকুও যদি না থেকে থাকে তাহলে মানুষ হবার অর্থই বা কি থাকে বলো !!

এর পরেও তুমি কতটা কাছের মানুষ তা বলে বোঝানোর নেই, তুমি বুঝবেও না হয়তো কোনোদিন
"কাছের মানুষ দূরে থুইয়া মরি আমি ধর ফরাইয়া রে"
আসলে সত্যি বলতে আমি অন্তত চাইনা এভাবে মরতে আর এই স্বল্প পাওয়া না পাওয়ার মাঝে দাড়িয়ে থাকা সবথেকে বড়ো প্রহরী হলো তোমার অভিমান ।

আমি নিজের ইগো টাকে সেল্ফ রেসপেক্ট এর নাম দিইনি আমি নিজের কথা ভেবেই সন্মানের সাথে গর্বিত হয়েই বরং তোমার কাছে মাথা নীচু করেছি তুমি এরপরেও গুরুত্ব টা বুঝলে না আর বিশ্বাস করো এতে আমার কোনো লজ্জাবোধ নেই ।

এতে আমার সেল্ফ রেসপেক্ট হারিয়ে যায়নি আর যাবেও না কোনোদিন কারণ নিজেকে মিথ্যা বলাই আসলে নিজেকে অসন্মান করা আর আমি সেটা অন্তত করিনি ।

কেউ যখন আমাকে তোমার কথা জিজ্ঞেস করে কেমন আছো বা তুমি আমি একসাথে নেই কেন,
তখনই বানিয়ে একটা মিথ্যে কাহিনী শোনাতে হয় কখনও তোমার নামে কখনও বা আমার নামে ।
আসলে আমাদের সম্পর্কের অস্তিত্ব টা থেকেও নেই ভাবতে হচ্ছে আজ তোমার অস্তিত্ব থেকেও নেই মনে করতে হচ্ছে যেখানে শুধুমাত্র তোমার অভিমানের প্রহরী দাড়িয়ে রয়েছে তুমি চাইলেই সহজে সব কিছু পাল্টে দিতে পারো ।

অভিমান করে 'তোমার চোখের সামনে প্রবল বৃষ্টি তে আধভেজা আমি ভিজে যাচ্ছি সম্পূর্ণ ভাবে' 
তবু্ও তোমার মন গলবে না হয়তো কোনোদিন !!!

তুমি ফিরলে না সন্ধ্যে নামের পরেও ।।

Thursday, August 5, 2021

সাংবাদিক কে মিথ্যা ইন্টারভিউ ??


ভাইরাল খবরের মধ্যে যা সবথেকে ওপরে রয়েছে সেই মহান মানুষ আর কেউ নয় বরং সেই সুপার ওমেন যার সাম্প্রতিক একটি বয়ানে তিনি জানান এমনই কিছু আশ্চর্য জনক ঘটনা যা আপনাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে ।
ধীরে ধীরে এই ঘটনা যেন আরও অবাক করা এক নতুন কোনো বাক নিচ্ছে যা সকলকে একপ্রকার চমকে দিয়েছে ।
প্রথমত তিনি জানিয়েছেন যে সেই ট্যাক্সি চালক নাকি ট্রাফিক নীয়ম ভেঙেছে যার ঠিক উল্টোটা দেখা যাচ্ছে ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে, আরও বলেন যে দুই বছর থেকে নাকি তাকে এভাবে মারা হচ্ছিল অর্থাৎ তিনি কি বলতে চাইছেন তা অনেকটাই অস্বাভাবিক ব্যাপার বলে সবার মনে হচ্ছে আরও বলেন যে সেই ট্যাক্সি চালক নাকি তার সাথে ১০০ জনকে নিয়ে সেখানে হাজির ছিলেন একমাত্র সেই মহিলাকে মারধর করার জন্যে এবং তার হাড্ডি ও নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছে ।
অথচ সবদিক থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আসলে কে অপরাধ করেছে বা কে আইনকে নিজের হাতে নিয়েছে একজন মহিলা হবার সুবিধা কে কোনোভাবেই কে ছেরে দিতে চায়নি ??
প্রথম একের পর এক চড় এখন একের পর এক মিথ্যা !

সত্যিটা এখন সবার সামনে অথচ তার পরেও কোনো নারীবাদী একজন পুরুষের বিচার পাইয়ে দিতে এগিয়ে আসেনি কিন্তু অন্যদিকে কোনো পুরুষ মহিলাদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা করে অর্থাৎ বিচার পাইয়ে দিতে রাস্তাতেও নেমে পড়ে, তবে এটাই কি আমাদের সমাজ ?
আসলে যেসব মহিলারা পিছিয়ে পড়েছে বলে নারীবাদী মানুষের আবির্ভাব হয়েছে সেই পিছিয়ে পড়া মহিলারা এখনও পিছিয়েই রয়েছে অন্যদিকে আজকের বুদ্ধিমতী মহিলারা এর সুবিধা ভোগ করছেন ভুল ভাবে ।।

আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না ।

Tuesday, August 3, 2021

ছেলে বলেই কি কেউ বাঁচাতে আসেনি ??

কিছু মানুষের নিরীহতা অবশ্যই সন্মানের যোগ্য তবে কখনও কখনও এটাকে বোকামই বলতে হয় ।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিও যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন মহিলা একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার কে একের পর এক থাপ্পর কষিয়ে দিচ্ছে আর সেই ট্যাক্সি ড্রাইভার যেন মুখ লুকিয়ে বেঁচে যাবার চেষ্টা করছে কিন্তু তাতে বিফল হয়ে তাকে সর্বমোট ২২ টি থাপ্পর খেতে হয়, যেখানে তিনি চাইলেই পাল্টা আক্রমণ করতেই পারতো কিন্তু করেনি, এখানেই বোঝার যে একজন পুরুষের মনে মহিলাদের প্রতি ঠিক কতটা সন্মান রয়েছে ।
ছেলেটি চাইলেই নিজেকে বাঁচাতে সেও আক্রমন করতে পারতো আর সেটা করলেই আজকে সোশাল মিডিয়ায় সমস্ত মহিলা সমর্থকদের দেখা যেত, টুইটার এ চলতো হ্যাশট্যাগের ট্রেন্ড ।
তবে একজন ছেলের সাথে কোন অন্যায় হলে সেইসব মহান নারীবাদীরা চুপ থাকে !!
একেই তো সমান অধিকারের পক্ষপাতি করা বলা হয় তাই নয় কি ?

একের পর এক থাপ্পড়ের শব্দে মজা নেওয়া লোকের ভিড় চারিদিকে কিন্তু কেউ সেই ট্যাক্সি ড্রাইভার কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কারন একজন মহিলা কখনও ভুল হতে পারেনা এই কথাতেই বিশ্বাসী লোকের ভিড় বেড়ে গেছে আজ ।
প্রথমে গাড়ীর কাচ, ফোন তারপর টেনে হিচড়ে গাড়ি থেকে বের করা এবং তারপর শুরু হয় এক অমানবিক নির্যাতনের যার প্রমাণ থাকে নিঃশ্চুপ জনতা ।
তবে যদি সেই ট্যাক্সি ড্রাইভারের দোষ থেকেও থাকে তবে তিনি কে যার এত সাহস হয়, একজন পুরুষের গায়ে হাত দেওয়ার ?
তবে আর একটা ব্যাপার যা না বললেই নয় এই সমস্ত ঘটনার মাঝে দাড়িয়ে ছিল একজন ট্রাফিক পুলিশও তিনি চুপচাপ সব দেখে কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া ছিলনা বরং ঠিক সময় বুঝে সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন, অর্থাৎ ভাবুন একজন পুলিশ কর্মীই যদি এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে সাধারণ মানুষ কি করনীয় !!

অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজও সামনে আসলো সত্যিটা সবার জানা হলো বাকি রইল দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করা ।
ভাবুন সেই ছেলেটার কথা নিজেকে কতটা অকূল মনে হয়েছিল তার সেই সময় হয়তো এখনও হচ্ছে ।
মহিলা হোক বা পুরুষ অধিকার সবার আছে এবং তা অবশ্যই সমান সমান তবে আজকের ট্যাক্সি ড্রাইভার এর প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তার শাস্তি দেয়াটা আবশ্যক ।

Sunday, August 1, 2021

জনপ্রিয় হতে চাইলে বলুন দুই লাইন

Buy this motivational book
পিচ্চি একটা ছেলে যে মহান কাজ করেনি,
কিন্তু তাকে উপলব্ধি করেন হচ্ছে যে সে মহান কাজই করেছে যার ফলে তার মনের ভাবটাও পাল্টে গেছে শোনা যাচ্ছে ছেলেটা আর স্কুলের ক্লাসও করেনা আর নাকি স্কুল যাবেও না অথবা যাবেই বা কেন ?
যার কাধে মন্ত্রীর হাত সে কেনোই বা আর পড়াশুনা করতে চাইবে, কেনোই কিছু শিখতে চাইবে ?
আসলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চাদের মুখ থেকে অনেক মজাদার কথা বা শব্দ বেরিয়ে আসে যেটা মেনে নেয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার যা মেনে নিতেই হয় ।
আর সেই সব কিছুকে মজার ছলেই নিতে হয় কারন সেটা তার নিজের ভূলও না অথবা নয় কোনো খারাপ কাজ যেটা অন্যায়, শুধু সে বোঝেনা জানেনা আর সেজন্যই না জেনে বুঝে কিছু বলে ফেলা একটা হাস্যকর ব্যাপার যেটা স্বাভাবিক ।
আমি তুমি সবাই এই একটা স্টেজ এর মধ্যে দিয়েই এসেছি সেটাও স্বাভাবিক ।
তবে কেউ ভুল করলে সেটা বোঝানোর দায়িত্বটা আমাদের এই সমাজের দায়িত্ববাণ মানুষদের অথবা সেই সব সমাজের অভিভাবকদেরই ।
কিন্তু বাস্তবের রূপটাই কেমন পাল্টে গেছে আজ,
ছেলেটার ভবিষ্যত টা ভেবে দেখুন যদি সে ঠিক শিক্ষা না পায় তাহলে তার মানসিকতা টা কোন পর্যায়ে যাবে ।
আরও একটা খারাপ ব্যাপার যেটা হলো এর দেখে এখন আরও মানুষজন চাইবে তার ছেলে মেয়েও এভাবে জনপ্রিয় হোক 
মানুষ সহজ জীবন চায় অতওব দুই লাইন কিছু বলে যদি জনপ্রিয় হওয়াই যায় তাহলে সেই সুযোগ কেই বা ছাড়বে !!
ছেলেটাকে নিয়ে আগে দেখতাম নানান খিল্লি মিম বেরোত আর কমেন্টে দেখা যেত গলি গালাচ ভর্তি আর আজকে সেই লোকজন গুলোই তার ফটো শেয়ার করে একটা মোটিভেশনাল লাইন লিখেছে যার থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে সে আগামী তে ঠিক আরও কত আজব কিছু হতে চলেছে ।

এমন চিন্তা ভাবনা গুলো বদলে গেলে সমাজের এগিয়ে যাবার রাস্তা কে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না ।

Thursday, June 24, 2021

অক্সিজেন নাকী হীরের আংটি !!

করোনা এখনও শেষই হলো না
কিন্তু এই করোনা পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের যেসব শেখালো সেগুলোর মধ্যে যা অন্যতম ছিল তা হলো 'অক্সিজেনের প্রয়োজন' ।
যার কারনে না জানি কত নিষ্পাপ চেনা অচেনা মুখ আজ আমার আপনাদের মাঝে নেই,
শুধু মাত্র অক্সিজেন ঠিক সময়ে পায়নি বলে,
কিন্তু তারপরেও তাড়াহুড়ো করে এসব করুন দৃশ্য কে তুচ্ছ করে ভুলে যাবার বৈশিষ্ট্য টা যায়নি ?
টেলিভিশনের পর্দায় প্রত্যেকদিন নতুন নতুন পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে, বলা হচ্ছে আগামী প্রজন্ম কে বাঁচাতে দেশের মানুষের এক জোট হয়ে কিভাবে পরিবেশ, জলবায়ু এবং মৃত্তিকা সংরক্ষণ করাটা একান্তই জরুরী ।
গাছ লাগানোর আবেদন করা হচ্ছে অন্যথা বিশেষজ্ঞের ধারণা অনুযায়ী আগামীতে আরও খারাপ অবস্থার শিকার হতে পারে আমাদের এই প্রজন্ম কেই,
কিন্তু দিল্লি থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে মধ্যপ্রদেশের বাক্সওয়াহা (Buxwaha) নামক জঙ্গল থেকে অক্সিজেন প্রদানকারী দুই লক্ষাধিক গাছ কাটা হবে হীরের খনন কাজ শুরু করতে !
তবে আপনার কি রায় ? কি চান আপনি অক্সিজেন নাকি হীরে ?
সারা বিশ্ব করোনা মোকাবিলা করছে এবং এই মোকাবিলায় কারোর এটা বুঝতে বাকী নেই যে, যদি পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো তাহলে এই লড়াইয়ে জেতাটা বেশি সহজ হতে পারত ।

আর সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের বাক্সওয়াহা নামক এলাকায় যেখানে হীরের জন্য অক্সিজেন প্রদানকারী দুই লক্ষাধিক গাছের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ।
সাথে সেখানকার স্থানীয় এলাকাবাসী, নদী, বন্যপ্রাণী, পাখি দেরও অস্তিত্ব রয়েছে ঝুঁকিতে ।
তবে সরকার দাবি করছেন যত পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার দ্বিগুণ গাছ লাগানো হবে এবং চাকরি পাবে অনেকেই যার ফলে অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী হবে ।
কিন্তু আদৌ কি এমনটা হবে ? আর চাকরি বলতে খনন কাজ করার জন্যেই তো শুধু লোক লাগানো হবে তাই নয় কি? আর কে চায় এমন চাকরি ?

মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড যে এলাকাটিতে আগে থেকেই জলের অভাব রয়েছে (খরাপ্রবন এলাকা) এবং উল্টোদিকে হীরে খনন কাজে যেহেতু তীব্র জলের যোগান অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বরং বলা হচ্ছে বছরে প্রায় ৫৯০ কোটি জলের খরচ করা হবে অর্থাৎ ভবিষ্যতে সেই এলাকার জল সংকট কোন অবস্থায় পৌঁছাবে তা ধারণার বাইরে ।

২০১৭ সালে কিছু পরিবেশ সংরক্ষক সংস্থা এবং পরিবেশ প্রেমীদের বিরোধিতায় এই প্রজেক্ট টি রিও টিন্ট কোম্পানির হাত থেকে বেঁচে যায় এবং সাথে নদী, জঙ্গল, বন্যপ্রাণী, গাছ এবং উপজাতী কেও বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল ।
কিন্তু পরবর্তীকালে আবার নতুন সরকারের অধীনে প্রজেক্টটি পুণরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,
যা সত্যিই একটা দুঃখ জনক ব্যাপার ।

তবে এর পরিবর্তে যা করা যেতে পারে,
যদি গাছ কাটতেই হয় তবে যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার দ্বিগুণ গাছ লাগিয়ে অন্য আরেকটি জঙ্গল তৈরী করা যেতে পারে এবং গাছ গুলো যতদিন না ঠিক ঠাক বেড়ে উঠছে ততদিন এই প্রজেক্ট টির কাজও স্থগিত থাকুক, জঙ্গল টি ঠিকঠাক ভাবে বেড়ে উঠলে তখন না হয় খনন কাজ শুরু করা যেতে পরে তাতে কারোরই ততটা ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকছে না অন্তত এবং হীরে গুলোও হারিয়ে যাবেনা ।
অথবা কিছু কোম্পানী তাদের ল্যাব থেকে যেভাবে হীরে তৈরী করেছে তা মূল হীরের থেকেও উন্নত মানের এবং যা কিনা কম খরচেও তৈরী করা সম্ভব ।
যার ফলে কোনো গাছের বলি দিতে হবেনা এবং পরিবেশ রক্ষা পাবে অর্থাৎ চাইলেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হতে পরে ।
যেহেতু হীরে তৈরী হয় কার্বন থেকে সেই হিসেবে ল্যাব থেকে যে হীরে তৈরী হবে তাও মূল হীরের মান বজায় রাখার ক্ষমতা রাখে বলাই যায় ।

সর্বশেষ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় কিছু হীরের কোম্পানী হীরে তৈরী করতে গাছ কাটবে না যার পরিবর্তে ল্যাব থেকে হীরে তৈরী করার শপথ নিয়েছে ।

#savebuxwaha





Wednesday, June 16, 2021

স্বল্প চাওয়া পাওয়া গুলোর জন্যেও লড়াই কেন

স্বল্প চাওয়া পাওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ কিছু মানুষ নিজেকে নিয়ে বড্ড কম ভাবনা চিন্তা রাখে প্রায় রাখেই না বললেও চলে ।
শুধু তাদের প্রয়োজনীয় খাওয়া থাকার মতোই কিছু নিত্য দিনের চাহিদা, তাদের অধিকার, আর সেটুকু পেতেই তাদের লড়াই করতে হয় যেটা হয়ত এমন না হলেও পারত ।
কেন আজকের এই স্বাধীন দেশেও এভাবে এমন চিত্র গুলো দেখতে পাওয়া যায় ?
নীচু শ্রেণীর পাঠ্যবই গুলোতে সেই অত্যাচারী শাসক দের কথা পড়তাম কিভাবে তারা না খাইয়ে কাজ করিয়ে নিত নীচু শ্রেণীর মানুষদের দিয়ে অথবা শোষন করত আর তখন ক্লাসের সবাই নিজেদের ভীষন ভাগ্যবান মনে করতাম আমরা তেমন ভাবে কোনো অত্যাচারী শাসক দলের অত্যাচারে শাসিত নই বলে তবে ধীরে ধীরে সেরকম কিছুই যে নিজের চোখের সামনে হতে দেখা যাবে তা কোনোদিন ভাবনার জগতেও টোকা মারেনি ।
প্রত্যেকটা দিন কত মানুষ নিজেকে বলি দিচ্ছে এইসব বাস্তবতা কেই নিজের চোখে দেখে সহ্য না করতে পেরে ।
আজকের এই আধুনিকতা কিসের ? কোনটা আধুনিক হয়েছে অথবা আধুনিকতাটা কি তবে মানুষের জন্যেই তো?
কি হবে এই আধুনিকতা দিয়ে যদি কোনো মানুষই না থাকে সেই আধুনিকতার অংশীদার হতে !
শুধু কিছু প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েই কত জনকে জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে আজকের দিনেও, এত অন্যায় অবিচার কেন ?
তবে কি আমাদের আইন আদালতের ওপরেও কেউ আছে ?
সুবিচার না পাওয়া সেই মানুষগুলোর কথা ভাববেন সময় পেলে, হেঁ মহান শক্তিশালী মানুষরা ।
না বলতে চাইলেও বলতে হয়, এভাবে ক্ষমতার ভুল প্রয়োগ করাকে কোনো ভাবেই মানা যায়না ।
Just write



Monday, June 7, 2021

মৃত্যু মুখী যেই দিনটার কথা আমি মনে করতে চাইনা

নতুন জায়গায় খারাপ সবকিছুকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যাওয়ার শুরু, নতুন জব, উঁচু অবস্থান সত্যিই নিজেকে খুশির আঁচ পেতে দেখছি পূনরায় যেন ।
কাজটায় জয়েন করার পরে পরেই,
বাইক কেনার জন্যে লোন নিই আর পুরানো বাইকের খোঁজ করা শুরু করি ততদিনে জামাইবাবুর গ্ল্যামার বাইক টা নিয়েই অফিস যাওয়া আসা শুরু করি ।
ঘটনা টা হলো ১১ অক্টোবর ২০২০ এর, রবিবার অফিস ছুটির দিন এক বন্ধুর সাথে ঘুরতে যাবার প্ল্যান ছিল প্রথমত রাজী ছিলামনা কারণ সেদিনও অফিস খোলা থাকার কথা ছিল কিন্তু পরে অফিস যাওয়া ক্যান্সেল হলে রাজী হতেই হয় ।
সেদিন সকালে তিনজন বন্ধু (স্কুল ফ্রেন্ডস) একসাথে হই নানান গল্প গুজব মজা ঠাট্টা সব কিছুই ছিল সাথে ছিল গাড়ি এক্সচেঞ্জ করার কথা সে (স্কুটির মালিক) নিজেই বলে যেহেতু তোরা বাইরে যাবি তো আমার স্কুটি টা নিতে পরিস গাড়ীর কাগজ সব OK আছে পুলিশ ধরলে কোনো ভয় থাকবেনা আর আমারও বাইক চালানো ট্রেনিংও হয়ে যাবে যেহেতু সে কয়েকদিন আগেই বাইকের ট্রাইলে ফেল করেছে ।
আমরা দুজন বন্ধু আর তিনজন মেয়ে যাদের একজন নাকি আমাদের একই কলেজে (শিলিগুড়ি কলেজ) পড়ত আর বাকিরা ওরই বোন ছিল কিন্তু আমি চিনতাম না আমার বন্ধুর বান্ধবী বলেই চেনা জানা হয় ।
প্রথমে লালপুল যাই সেখানে সেদিন পুলিশ রেড পরে বলে সেখান থেকে বেরিয়ে দুধিয়ার দিকে রওনা দিই আমি তখনও বললাম একটা জায়গা কতবার যাবি অন্যদিকে যাই ?
কিন্তু না আসলে ফেরার পথে একটা বড়ো ঘটনা হবারই ছিল সেদিন আর ঠিক সেটাই হলো মেয়েটা আমার থেকে স্কুটি চাইলো আর আমিও না জেনে বুঝে দিয়েও দিই রাস্তা প্রায় শেষের দিকে গিয়ে একটা ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা মারে আমি ছিটকে রাস্তায় আর মেয়েটা বেহুস অবস্থায় পড়ে আছে স্কুটি টায় হেলান দিয়ে, গাড়িটার দিকে তাকালাম সব কিছু তছনছ পরে আছে, কিন্তু রক্ত গুল সব কিছুই আরও জটিল করে দিল আমার সমস্ত ভাবনা চিন্তা আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা সব কিছু থমকে দাঁড়ায়, চোখের দেখা সব কিছুই ঝাপসা তখন, ফোনের স্ক্রিনে রক্তের দাগ, রুমালে, হাতে, পায়ে কিন্তু অন্য বন্ধুটা আর ওর সাথে থাকা দুজন যেহেতু আমাদের থেকে এগিয়ে ছিল ওর পেট্রোল শেষের দিকে বলে তাই ওকে ফোন করে ডাকা আর মেয়েটাকে হসপিটাল এ নিয়ে গিয়ে জীবন বাঁচানো টা আমার কাছে ভীষন ইম্পর্ট্যান্ট মনে হয় আর অবশেষে সব কিছুই একপ্রকার স্বাভাবিক মনে হয় অন্তত প্রাণে রক্ষা পাই বলে ।
আর হ্যাঁ রাস্তায় রক্তাক্ত শরীর নিয়ে পরে থাকলেও যে কেউ সাহয্যের হাত বাড়ায় না এবং গাড়ি পরিষ্কার করা নোংরা একটা কাপড় দেয় রক্ত মোছার জন্য সেদিনের অভিজ্ঞ্যতা টা মনে রাখার মতো মানুষের এটাই ছিল সেরা মানসিকতার পরিচয় আমার চোখে ।
তারপরের দিন স্কুটি টা নিতে থানায় যাওয়া এবং নিজের বাইকটা বন্ধুর কাছে রেখে দেওয়া আর নিজের হাঁটতে না পারা পা নিয়েই এসব কিছু নিজের কর্তব্যের বলে সেসব পূরণ করা এবং বাইক চালাতে না পারলেও বাইক চালিয়ে নিয়ে যাওয়া এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ পরে নিজেকে স্বাভাবিক মনে হলে অফিস জয়েন করি পুণরায়, তখনও আমার বন্ধু ফোন করে জিজ্ঞেস করেনি কেমন আছিস বলে ।
প্রথম ফোনটা টা যখন আসল আশা করিনি যে ও টাকা চাইতেই ফোন টা করবে যদিও আগে থেকে আমি নিজে স্বীকার করেই নিয়েছি এবং কথা দিই যে গাড়িটার সমস্ত খরচ আমিই দিব আর নাকচ করার কোনো রাস্তাও নেই যেহেতু আমার দায়িত্ব ছিল গাড়িটার খেয়াল রাখা অতএব আমি না করতে পারিনি কিন্তু না বললেও বলতে পারতাম যেটা করিনি বরং সেইদিনই আমার এটিএম কার্ড টা ওকে দিয়ে দিই এবং মেয়েটাকে নিয়ে মেডিক্যাল পৌঁছাই, নিজের কাছে তখন শুধু 150 টাকার মতো থাকা সত্বেও কার্ড টা ওকে দিয়ে দিতে দুবার ভাবিনি যদি কোনো সত্যিকারের বন্ধু সেখানে থাকতো আমি নিশ্চিত সে কার্ড নিতে নাকচ করতো যেটা অনেক পরে উপলব্ধি করলাম ।
তারপর আমার কার্ড থেকে প্রথমে ৩০০০/- টাকা, তারপর ২৫০০/- টাকা বের হয় স্কুটিটার প্রাথমিক খরচ বাবদ ।

আমি নিজে ইন্সুরেন্স কোম্পানী তে ইমেইল করি ওরা ফোন করে গাড়ি সার্ভেও করে যায় তারপর গাড়ি ঠিক হলে ইন্সুরেন্স কোম্পানী থেকে ফোন আসলেও তাকে ভুলভাল তথ্য, ফটো দিয়ে সহায়তা না করা আমাকে না জানান, যেহেতু ইন্সুরেন্স টা পেলে আমার সাহায্য হতো টাকা গুলো আমার বেঁচে যেত ।
আচ্ছা নিজের গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট হলে নিজের ইন্সুরেন্স টাও কি ক্লাইম করা যায়না নিজে থেকে বা কে চায়না যে ধুর ছার না পেলেও কোনো যায় আসেনা, বন্ধুত্বের দায় টা না দিলেও এটুকু তো করা যায় নাকি অন্তত গাড়ীর মালিক হিসেবে ?
হতে পারে তাহলে আমার বন্ধুর একটু মূল্যবান ভাবনা রয়েছে বলাই যায় ।
তারপর আবার ফোনের ওপার থেকে আওয়াজ আসে কিরে টাকা যোগাড় করলি ?
আমার উত্তর ছিল না এখন কোথায় পাবো স্যালারি টা ঢুকলেই দিয়ে দিব আপাতত তোর টাকা খরচ করতে থাক যত হবে আমি দিয়ে দিব ।
জিজ্ঞেস করি যেহেতু স্কুটি টা বিক্রি করে দিবি সেই টাকায় আপাতত কাজ চালা কিন্তু উত্তর আসে "সেটা আমার পার্সোনাল ব্যাপার আমি গাড়ি বিক্রি করবো না কি করবো সেটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবেনা তুই টাকা কবে দিবি সেটা বল"
আমি চুপ হয়ে যাই আর সেদিনের মত কথা শেষ হয় আমি কাজে মন বসাতে শুরু করি ততদিনে আরেকবার সেই ফোনটাই আসে শুধু টাকার খোঁজ নিতে আরও বলে যে লোনের টাকা টা দিতে পারিস স্যালারি পেলে মিলিয়ে নিস কিন্তু আমি বাড়িতে এত টাকা নষ্ট করার কথা না বলার সিদ্ধান্ত রাখি যেটা আজও মনে হয়না ভুল করেছি কিন্তু ওর সব বুঝেও এমন কথা গুলো শুনে ভীষন খারাপ লাগলে আমার অন্য এক বন্ধুর থেকে ধার করে আবার ৪ হাজার টাকা দিই কিন্তু গাড়ি টা ঠিক করতে টোটাল ২২ হাজার খরচ হয় যা আমার কাছে একান্তই আমার নিজের খরচ বাড়ি তে বলাটা সহজ ছিলইনা তাই একমাত্র উপায় ছিল স্যালারি কিন্তু এই পরিমাণ টাকা আমার একমাসের টাকায় পূরণ হয়না অতএব মন না চাইলেও বলতে হয় যে বাকি টাকাটা আগের মাসে নিস আমার মাসিক আয়ের পুরোটা দিলেও অবুঝের মতো টাকা যোগাড় করার চাপ দেওয়া টাই তাহলে বন্ধুত্বের পাওনা ? 
যদিও আমি আমার হাত খরচ টা অব্দি রাখতে ভুলে যাই এবং মাসের অর্ধেক যেতেই চারিদিক থেকে আর্থিক ভাবে প্রায় শূন্য হয়ে পরি কাউকে বলতেও পারিনি তবে বন্ধু দের একজনই তখন হাত বাড়িয়েছিল।
তারপরেও অকথা কুকথা গুলোর শুরু হয় এর পর থেকেই একদিকে কেউ বলে তোর জন্য আমি গাড়ি নিয়ে পুজোয় ঘুরতে পারলাম না কাজে যেতে পারলাম না কত টাকা লজ করলি তুই জানিস? বন্ধুটার মা অব্দি ফোন করে বলে বাবু নিজের ভুলের জন্য তো এখন তোকেই তার দাম দিতে হবে তাইনা সেদিন কিছু বলিনি কিন্তু কে এমন ভাবে বলে শুনি ??
অ্যাকসিডেন্ট টা তবে কি আমি নিজের ইচ্ছায় করেছি মানুষ বলে বন্ধু চেনা যায় বিপদে তো এটা কি আমার বানানো নাটক ছিল নাকি ?
আর অ্যাকসিডেন্ট টা আমি না বরং মেয়েটা করেছিল
পরে যেটা জানতে পারি যে ও ঠিকঠাক গাড়ি চালাতে পারতোনা আর আমার প্রশ্ন একটাই ছিল যে গাড়ি যেহেতু চালাতে পারেনা তো বলা উচিত তাই না ?
কিন্তু বলেনি আর আমার দোষ যে আমি বিশ্বাস করি অন্ধের মত আর গাড়ি টা দিয়ে দিই
হেলমেট পড়তে বললেও সেটা করেনি কিন্তু তারপরেও আমি ওকে সোজাসুজি ভাবে দোষ দিই নি কারন সে হয়তো আবার এসব নিয়ে ভাবতে থাকবে যেটা কতটা খারাপ আমি অন্তত অল্প হলেও বুঝি এই খারাপ দুঃস্বপ্ন গুলো কতটা যন্ত্রণা দেয় কিন্তু অন্যদিকে আমার প্রীয় বন্ধু এসবের জন্যে সোজাসুজি আমার দিকে আঙুল তুলে ধরলো এটাই তো ঠিক তাইনা ??
বন্ধুত্বের পাওনা বলে কথা এমন দামী না হলে হয় ?
ও হ্যাঁ আরও বাকি আছে আমার প্রীয় বন্ধুর বলা কিছু মূল্যবান বক্তব্য যেগুলো না বললেই নয় 👇

১, "আমি চাইলে তোর বাইক টা আটকে দিতে পারতাম "
২, "যদি মেয়েটা মারা যেত তাহলে আমি স্কুটি চুরির কেস করতাম "
∆ অর্থাৎ নিজের বন্ধুকে চোর সাজাতেও পিছুপা হতনা, সত্যিই দারুন ।
৩, "তোর তো কিছুই হয়নি যা ক্ষতি হলো আমার হলো "
∆ তোর স্কুটি টা না নিলে এমন দুর্ঘটনা হতই না অর্থাৎ দোষারোপ টা আমিও করতে পারি ।
৪, "আমি নাকি ওদের বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি টাকার ভয়ে"
∆ আরে দাদা কোনোদিন তোদের বাড়ি গেছি বিনা দরকারে খাবার খেতে আর এমন হাটতে না পারা অবস্থায় তোদের বাড়ি যেতাম মজা করতে তাইত ?
৫, "আমি ওর বন্ধু বলেই নাকি আমার বাইক টা আটকে রাখেনি এবং আমার সাথে খুব ভালো ব্যাবহার করছে"
∆ হ্যাঁ এর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ।

আরও আছে যেগুলো আপাতত মনে পরছেনা,
এরপর অবশেষে সমস্ত টাকার হিসেব বুঝিয়ে দিয়ে আমি চুপ থাকি ।
এবং এই ঘটনা টার থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে শুরু করি এভাবে এমন খারাপ ভাবে নিজেকে ডুবতে দেখে ভীষন খারাপ গুমট হয়ে থাকি তারপর ধীরে ধীরে সব কিছু নরমাল মনে হয়।
কিন্তু কিছু মিথ্যে সমালোচনা তাও এই খারাপ ঘটনার ব্যাপারে আমাকে আমার পুরোনো ডায়েরির লেখা গুলো তুলে ধরতে বাধ্য করলো তাই না বলে পারলাম না ।
একদিকে কিছু অপ্রাপ্তির বেদনা থেকে নিজেকে ঠিক ভাবে সরিয়ে রাখতে না পারা আমি তার উপরন্তু এই রকম একটা খারাপ ব্যাপার আমার হয়তো প্রাণ কারেনি কিন্তু মানসিক ভাবে নিশ্চুপ করে দিয়েছে,
এর থেকেই আরেও একটা সম্পর্কের ইতি ।।

অবশেষে বলব এসব খারাপ দুঃস্বপ্ন গুলো নিয়ে দয়া করে মিথ্যে গল্প গুজব মজা করা বন্ধ রাখিস পারলে সে যেই হোক যারা যারা আজকের আগে থেকেই জানতিস তাদেরকেই বলছি ।

বি দ্রঃ- সম্পূর্ণ সত্যি ঘটে যাওয়া আমার জীবনের একটা দুঃস্বপ্ন কাহিনী ।

Thursday, May 27, 2021

টি-আরপির লোভে ভুলভাল বার্তা মানুষের সামনে


সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে আসল সত্যি, এত পরিমাণ জল যে সাঁতার কেটে যেতে হচ্ছে বিপদ গ্রস্ত লোকেদের কাছে সাহাজ্যের হাত বাড়াতে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের দেখানো হলো এক হাঁটু জলে সাঁতার কাটতে আর সেই জলেই এক হাত মতন দূরত্বে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক তার রিপোর্ট করল।
খবরে বলা হলো যে দেখুন কিভাবে সাঁতার কেটে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাচ্ছে আর ক্যামেরা ঘোরানো হলে দেখা যায় দিব্যি জল ছেরে পালিয়ে গেল সেই কর্মীরা অতএব একটা নাটকীয় রিপোর্ট কে সত্যি যশের প্রভাব বলে দেখানোর চেষ্টা করা হলো ।
আর মানুষ এত টাও বোকা নয় যে সত্যিটা দেখতেই পারবেনা এবং ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় এ নিয়ে ট্রল শুরু হয়ে গিয়েছে ।
খারাপ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের রিপোর্ট করা টা আজ সফল, আরও একবার মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে মানুষ ভুল ভাল খবর কিভাবে অনেকেই গিলে নেয় যাচাই না করে ।
অবহাওয়া দপ্তরের কথা অনুযায়ী 'যশ' ঠিক ততটা শক্তিশালী ছিলনা বলে একদল মানুষ নানান রকমের হাসি ঠাট্টায় মেতেছে ।
যশ কেও বানানো হয়েছে মিম মেটেরিয়াল ভাবা যায় বুঝিনা মানুষের চাওয়া পাওয়ার হিসেব, কি চেয়েছিল তারা?
যারা ঘরছাড়া তারা আরও নিঃস্ব হোক? নিজে তো শক্ত ছাদের নীচে বসে বেশ মজায় ফেসবুক আর নেটের জগতে ভ্রমন করছেন আপনার তো কিছু করতে পারবেনা সেটাই ভাবছেন তাইতো ?
হ্যাঁ মানুষের মানসিকতা ঠিক এতটা নীচে নামলেই অন্যের নিঃস্ব হওয়া টাকে মজার লাগে।
তবে কি 'যশ' কারোর কোনো ক্ষতি করেনি যে তাকে এভাবে হাসির খোরাক করা হচ্ছে ?
বরং ক্ষতির পরিমাণ বা কারা ঘর ছাড়া হলো, কতজনের প্রাণ গেলো, সেসবে তাদের চোখ পরেনি বলাই যায় ।
অদ্ভুত কিছু মানুষের এমন কু কার্যের জন্যে যারা সত্যি সত্যি খারাপ পরিস্থিতির ছবি সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছে তাদেরকেও মিথ্যা প্ররোচনা পেতে হয় ।
এটাই প্রথম নয় এমন হাজারো ভুলভাল বার্তা দেয়া হচ্ছে দেশের কিছু বড়ো বড়ো মিডিয়া হাউস থেকেই যার প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে, তার সত্বেও দেশের সংবিধান বা আইন কোনো ভাবেই এদের কিচ্ছু প্রশ্ন করেনা ।
আর যারা এই বিপদের মুখে পরেও মানুষের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছে তাদের স্যালুট জানাই।

Friday, May 14, 2021

পাবজি ফ্যানদের জন্যে খুশির খবর টা তাহলে সত্যি ?

আমাদের দেশে পাবজী সরকারের তরফ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তার পর থেকেই পাবজীর তরফ থেকে ভারতের বাজারে নতুন ভাবে ফিরে আসার লড়াই যেন লেগেই আছে, আর পাবজী প্রেমিকদের কাছেও উৎসাহ কম নেই এই গেমের ফেরত আসার জন্য তবে হ্যাঁ, বলা যেতে পারে এবারের টা পুরোপুরি ভাবে এই দেশের জন্যে তৈরী নতুন গেম যা পাবজির নামে আসবেই না বরং এবারে আসবে সম্পূর্ণ নতুন অন্য এক নামে ।
করোনা পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী পাবজি ফ্যানদের কাছে সময় কাটানো যেন বিরক্তিকর হয়ে গেছে সেই বিরক্তিকর সময় থেকে মুক্তি পাওয়ার এক নতুন আশ্বাস যেন এই 'ব্যাটেলগ্রাউন্ড মোবাইল ইন্ডিয়া' ।
আজকে অর্থাৎ ১৪ মে ২০২১ -এ ব্যাটেলগ্রাউন্ড মোবাইল ইন্ডিয়ার ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করা একটা ভিডিও তে ঘোষণা করা হয় যে আগামী ১৮ তারিখ অর্থাৎ 18 may 2021 
থেকে প্রি রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে প্লে স্টোর থেকে ।
এর আগেও একবার শোনা গেলেও একপ্রকার খিল্লি হয়েই রয়ে যায় সবার কাছে, 2020 এর দীপাবলি তে ঘোষণা হবার পরেও কোনো গেম আসেনি তবে এবারও সেরকম কিছুই হবেনাত?
এই সংশয় টা এখনও রয়ে গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেন সত্যি এটাই যে অবশেষে পাবজী আবার ফিরছে নতুন নাম নিয়ে নতুন ভাবে ।
তবে এই গেমটি শুধুমাত্র ভারতীয় রাই খেলতে পারবে এবং নাবালক রা দিনে শুধুমাত্র তিনঘন্টা খেলতে পারবে বলেও জানা যায়, এমনটাই বলা হয়েছে ব্যাটেলগ্রাউন্ড মোবাইল ইন্ডিয়ার অফিশিয়ায় ওয়েবসাইডে ।
আশা করা যায় নতুন নতুন কিছু আপডেট পাওয়াও যাবে যেগুলো হয়ত ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কোনো কিছুকে তুলে ধরার চেষ্টা হবে মূলত ইবং হিন্দি ভাষা কেও এখানে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেও আশা রাখা যায়, বিশেষ করে ভারতীয় জনপ্রিয় পাবজী প্লায়ার দের কাছে এখন এই নিয়ে বিশেষ কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে যেগুলো এটাই প্রমাণ করে যে এমন খারাপ পরিস্থিতিতে গেমের ফিরে আসাটা সত্যিই আনন্দের বিষয় সবার কাছেই কাছে ।




Saturday, May 8, 2021

এমনই নেতা বা নেত্রী চেয়েছিল এই শহর বুঝি

না কোনো দিন রাজনীতির দিকে তাকিয়ে থেকেছি না কোনোদিন থাকতে চাই,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কথা আজ ভীষন মনে পরছে
"সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি"
নিজেদের বানানো একটা গন্ডির ভেতরেই থেকে গেছে মানুষ হয়ে ভাবতেই ভুলে গেছি যেন ।
ভালো মন্দের সব বুঝেও চোখ বুজে সহ্য করে এগিয়ে চলা, এমন খারাপ সময়ে মানুষ খাবার জোগাতে পারছেনা অন্যদিকে কারোর খুশীর আহ্লাদ ঘর ভেঙে বেড়ায়, এরা বেচে যায় আবার কোনো এক রাজনৈতিক দলের নাম নিয়ে ।
সেই বাঙালি জাতির মতোই আজ যেন কিছু মানুষকে রাজনৈতিক দলের সদস্য করে রাখা হয়েছে যাদের মধ্যে মানুষ হয়ে মানসিকতার অভাব আছে শুধু ।
তাদের সেই রাজনৈতিক দলের বাইরে এসে কোনোকিছু ই ভাববার অবকাশ নেই আজ ।
ভোট দাতা বলে ভোট দিই পরিবর্তে কোনো কিছু আশাও করিনি কোনোদিন, যতটুকু অধিকার একজন সাধারণ নাগরিক হলে থাকে সেটুকুই আমার চাওয়া ।
আর সেই পাওনা গুলোই আজ আমাদের অধিকারে নেই যেন, মৃত্যু মিছিল বের হলেও কারোর কোনো হেলদোল নেই, সুখের চেয়ারে বসে নিদ্রামগ্ন এই শহর, এত চিৎকার আর্তনাদ কারোর কানে যায়না আর যারা মানসিকতার খাতিরে নিজের প্রাণ বাজি রেখে এগিয়ে আসছে তাদের নামের সাথে জুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম অথবা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সত্যিই মহান এমন মানুষদের মাঝে বেঁচে থাকাটাই কেমন ধোয়াশা মনে হয় ।
কোটিপতি সব নেতা মন্ত্রী তারপরেও যেকোনো পরিস্থিতিতে সেই জনতার কাছেই চাঁদা আদায় করা হয় এটাই তো জনতার পাওনা তাইনা ?

যারা নিজের ঘরের খাবার জোগাতে অক্ষম তাদের সাথে জোর জুলুম টাও বেশি করা হয়,
আসলে সর্বকালের সত্যি এটাই যে শক্তিশালী ব্যাক্তিরা তাদের ক্ষমতা তাদের থেকে কমজোর দের দেখাতে ভালোবাসে অন্যথা তাদের সেই ক্ষমতার অধিকারী হবার যে কোনো মানেই থাকবে না ।

যেদিন সমাজের নীচু শ্রেণীর গরীব কৃষক, মজদুর রা একজোট হয়ে নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই এ সামিল হবে সেদিন বুঝবেন আপনার জোগানো খাবার টাও ওদেরই হাতের আর ওদের সাহায্য ছাড়া আপনার একটা মুহূর্ত ও কাটানো অসম্ভব পর হয়ে যাবে, তারপরেও আপনার মত লোকজন তাদের প্রাপ্য সন্মান বা অধিকার যেটা আপনাদের হাতে থাকে সেটুকুও দিতে পারেন না !
ভোট চাইতে যারা বাড়ি বাড়ি এসেছিল আজ কোথায় তারা ?
কই কেউ তো একবারও খোঁজ নিলেন না যাদের ভোটে জয়ী হয়েছেন তারা কেমন আছেন ।

এমনই নেতা বা নেত্রী চেয়েছিল এই শহর বুঝি ?