Thursday, June 24, 2021

অক্সিজেন নাকী হীরের আংটি !!

করোনা এখনও শেষই হলো না
কিন্তু এই করোনা পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের যেসব শেখালো সেগুলোর মধ্যে যা অন্যতম ছিল তা হলো 'অক্সিজেনের প্রয়োজন' ।
যার কারনে না জানি কত নিষ্পাপ চেনা অচেনা মুখ আজ আমার আপনাদের মাঝে নেই,
শুধু মাত্র অক্সিজেন ঠিক সময়ে পায়নি বলে,
কিন্তু তারপরেও তাড়াহুড়ো করে এসব করুন দৃশ্য কে তুচ্ছ করে ভুলে যাবার বৈশিষ্ট্য টা যায়নি ?
টেলিভিশনের পর্দায় প্রত্যেকদিন নতুন নতুন পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে, বলা হচ্ছে আগামী প্রজন্ম কে বাঁচাতে দেশের মানুষের এক জোট হয়ে কিভাবে পরিবেশ, জলবায়ু এবং মৃত্তিকা সংরক্ষণ করাটা একান্তই জরুরী ।
গাছ লাগানোর আবেদন করা হচ্ছে অন্যথা বিশেষজ্ঞের ধারণা অনুযায়ী আগামীতে আরও খারাপ অবস্থার শিকার হতে পারে আমাদের এই প্রজন্ম কেই,
কিন্তু দিল্লি থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে মধ্যপ্রদেশের বাক্সওয়াহা (Buxwaha) নামক জঙ্গল থেকে অক্সিজেন প্রদানকারী দুই লক্ষাধিক গাছ কাটা হবে হীরের খনন কাজ শুরু করতে !
তবে আপনার কি রায় ? কি চান আপনি অক্সিজেন নাকি হীরে ?
সারা বিশ্ব করোনা মোকাবিলা করছে এবং এই মোকাবিলায় কারোর এটা বুঝতে বাকী নেই যে, যদি পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো তাহলে এই লড়াইয়ে জেতাটা বেশি সহজ হতে পারত ।

আর সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের বাক্সওয়াহা নামক এলাকায় যেখানে হীরের জন্য অক্সিজেন প্রদানকারী দুই লক্ষাধিক গাছের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ।
সাথে সেখানকার স্থানীয় এলাকাবাসী, নদী, বন্যপ্রাণী, পাখি দেরও অস্তিত্ব রয়েছে ঝুঁকিতে ।
তবে সরকার দাবি করছেন যত পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার দ্বিগুণ গাছ লাগানো হবে এবং চাকরি পাবে অনেকেই যার ফলে অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী হবে ।
কিন্তু আদৌ কি এমনটা হবে ? আর চাকরি বলতে খনন কাজ করার জন্যেই তো শুধু লোক লাগানো হবে তাই নয় কি? আর কে চায় এমন চাকরি ?

মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড যে এলাকাটিতে আগে থেকেই জলের অভাব রয়েছে (খরাপ্রবন এলাকা) এবং উল্টোদিকে হীরে খনন কাজে যেহেতু তীব্র জলের যোগান অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বরং বলা হচ্ছে বছরে প্রায় ৫৯০ কোটি জলের খরচ করা হবে অর্থাৎ ভবিষ্যতে সেই এলাকার জল সংকট কোন অবস্থায় পৌঁছাবে তা ধারণার বাইরে ।

২০১৭ সালে কিছু পরিবেশ সংরক্ষক সংস্থা এবং পরিবেশ প্রেমীদের বিরোধিতায় এই প্রজেক্ট টি রিও টিন্ট কোম্পানির হাত থেকে বেঁচে যায় এবং সাথে নদী, জঙ্গল, বন্যপ্রাণী, গাছ এবং উপজাতী কেও বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল ।
কিন্তু পরবর্তীকালে আবার নতুন সরকারের অধীনে প্রজেক্টটি পুণরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,
যা সত্যিই একটা দুঃখ জনক ব্যাপার ।

তবে এর পরিবর্তে যা করা যেতে পারে,
যদি গাছ কাটতেই হয় তবে যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার দ্বিগুণ গাছ লাগিয়ে অন্য আরেকটি জঙ্গল তৈরী করা যেতে পারে এবং গাছ গুলো যতদিন না ঠিক ঠাক বেড়ে উঠছে ততদিন এই প্রজেক্ট টির কাজও স্থগিত থাকুক, জঙ্গল টি ঠিকঠাক ভাবে বেড়ে উঠলে তখন না হয় খনন কাজ শুরু করা যেতে পরে তাতে কারোরই ততটা ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকছে না অন্তত এবং হীরে গুলোও হারিয়ে যাবেনা ।
অথবা কিছু কোম্পানী তাদের ল্যাব থেকে যেভাবে হীরে তৈরী করেছে তা মূল হীরের থেকেও উন্নত মানের এবং যা কিনা কম খরচেও তৈরী করা সম্ভব ।
যার ফলে কোনো গাছের বলি দিতে হবেনা এবং পরিবেশ রক্ষা পাবে অর্থাৎ চাইলেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হতে পরে ।
যেহেতু হীরে তৈরী হয় কার্বন থেকে সেই হিসেবে ল্যাব থেকে যে হীরে তৈরী হবে তাও মূল হীরের মান বজায় রাখার ক্ষমতা রাখে বলাই যায় ।

সর্বশেষ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় কিছু হীরের কোম্পানী হীরে তৈরী করতে গাছ কাটবে না যার পরিবর্তে ল্যাব থেকে হীরে তৈরী করার শপথ নিয়েছে ।

#savebuxwaha





No comments: