বড্ড বোকার মতো প্রশ্ন করিস তুই !
মনে হয় আগের থেকেও বেশি গাম্ভীর্যতার আঁচ লেগেছে,
আমি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পরেও তুই এমন ভাবে নিজেকে এতোটা বেসামাল করে রাখবি ভাবিনি কখনও।
ভেবেছিলাম অন্তত আমার ওপর রাগ করেই কিছু একটা করবি
ভেবেছিলাম নতুন ভাবে নতুন পথের খোঁজ শুরু করবি ।
কিচ্ছু করিসনি তুই, কিছুই না বড্ড বোকার স্বর্গে পৌঁছে গিয়েছিস আরই ।
জানিনা কিসের এত শত রাগ অভিমান আর গাম্ভীর্যতা তোর।
আজ প্রায় পাঁচ বছর পরে একটা কফি হাউজে আবার দুজনের চোখে চোখ পরে,
যদিও স্পর্শ হয়তো চায়নি আর কোনোদিনও আমাদের দেখা বা কথা হোক ।
সে একবার তাকিয়েই মুখ ফিরিয়ে কফি হাউজের থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে,
কুয়াশাচ্ছন্ন দার্জিলিং এর সকাল আর একটু দূরে গেলেই
আবছা হয়ে যাবে স্পর্শ, আমি ঠিক করি আজ এত গুলো বছর পর অন্তত কথা বলাটা উচিৎ ছেলেটা আজও রাগ করে আছে ।
আর যাই হোক দুজনে মিলে অনেক গুলো ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছি একসময় আজ যদি পাঁচটা বছর পর দেখা হয়ে গেল কেন নয় একবার জিজ্ঞেস করি কেমন আছে সে ।
জানি হয়তো গভীর ভাবে আমার ওপর অভিমানী নাহলে এভাবে কেউ সকাল সকালে কফি হাউজ থেকে বেড়িয়ে যায় শুধু একজনকে দেখেই !!
বড্ড খারাপ লাগছে আমার, নিজেকে থামাতে না পেরে পিছু করতে শুরু করি স্পর্শের
দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে ওর ডান হাত টা ধরে বলি শোন না,
সে আর মুখ ফিরেও তাকাতে চায়না,
সেভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়েই প্রশ্ন করলো হঠাৎ এভাবে হাত ধরে নেয়া টা মনে হয়না ঠিক হচ্ছেনা, এভাবে রাস্তার মাঝে !!
প্লিস ছেরে দাও হাত টা আমায় যেতে হবে ।
একটু সময় হবে কথা বলতাম, পাঁচ বছর পর আমাদের এই প্রথমবারের দেখাতে অন্তত একসাথে এক কাপ কফি খাওয়াই যায়,
তাছারা আমি এটাও চাইনা কেউ আমার জন্যে সকালের চা না খেয়ে বেড়িয়ে যাক কফি হাউজ থেকে ।
আমার খারাপ লাগছে ছেরে দাও প্লিস আমি কিচ্ছু বলতে চাইনা তোমাকে আর আমি কারোর জন্যেই কফি হাউজ ছেরে যাচ্ছিনা কে হয়ে যাবে ভেবে রিটার্ন করছি ।
বেশ ঠিক আছে তবে আমি রিকুয়েস্ট করছি আজ প্লিস কতদিন হলো একবার ভূল করেও আমাদের দেখা হয়নি তো প্লিস ইয়ার ছারনা রাগ, আমি ওর হাত ছেড়ে দিয়ে সামনে গিয়ে দাড়াই ওর চোখের দিকে তাকাতেই দেখি ওর দুটো চোখ থেকে জল ঝরে পরছে,
আমি নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও পারিনা
নিজেকে ক্ষমা করতেও সাহস হচ্ছেনা,
আমার সহজে কোনো কিছুতেই অত বেশি খারাপ লাগেনা
তবে আজ একজন কে দেখে এভাবে নিজেকে কেমন পাপী মনে হচ্ছে ছেলেটা এত গুলো বছর আমার জন্যে মন খারাপ করে রেখেছে আর আমি স্বার্থপরের মত শুধু ইগনোর করে গেছি ।
ভাবলাম ওকে জড়িয়ে ধরে বলি ভালোবাসি তোকে প্লিস কান্না করিসনা সরি রে সরি প্লিস পারলে ক্ষমা করিস,
ভেজা গলায় বলে আমি চাই তুমি চলে যাও আর আমাকেও যেতে দাও ।
হাতটা ধরলাম আবার, ভেজা সকালে চোখের জল যেন মুছে গিয়েছে
কফি হাউজের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম সেও যেন শান্ত ভাবে আসছিল আমার সাথে,
জানতাম ও শান্ত হয়ে যাবে কিন্তূ তবে এতোটা গম্ভীর হয়ে গেছে সে এক দেখা না হলে জানতাম না ।
আমি দুটো কফি আর কিছু স্নাক্স অর্ডার করলাম ও তাকিয়ে আছে জানলার দিকে,
আমিও আর কিছুই বললাম না, কফিও চলে আসলো দুজনে চুপচাপ কফি শেষ করলাম ও একবারও আমার দিকে তাকালো না জানি কি চলছে ওর ভেতরে ।
ও তাড়াহুড়ো করে গিয়ে কার্ড থেকে পেমেন্ট করে দিলো আমিও বাধা দিতে গেলাম না,
একসাথে বাইরে বের হলাম কফি হাউজ থেকে
সব কিছু ভুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এখানেই থাকছিস মনে হচ্ছে !
না প্রায় দেড় মাস মতন আছি স্পর্শ উত্তর দিলো
ভালো আছিস তুই !
হ্যাঁ খারাপ থাকার কোনো কারন তো নেই ।
হমম অবশ্যই,
অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছিস তুই রে আগের থেকে আরও গম্ভীর হয়ে গিয়েছিস,
না আজকাল আর উত্তর দিতে ইচ্ছে করেনা,
কোনো সম্পর্কে আছিস নাকী ফরেভার সিঙ্গেল থাকার ইচ্ছে নিয়েই ঘুরছিস ।
আপাতত একার অস্তিত্ব টাকেই ভালবাসি অন্তত ছেরে তো যাবেনা আমাকে ।
ওহ ভালোই, বলে জড়িয়ে ধরলাম ওকে বললাম পারলে ক্ষমা করিস আমাকে
সে কোনো রিয়াকশনই দিলনা, বরং বললো আমি কাউকে ক্ষমা করার মতো পর্যায়ে আজ অব্দি রাখিনি কাউকেই, এতোটা নিচুতে রাখিনি ।
আর আমি তোমার ওপর রাগ করেও নেই অতএব ক্ষমা করার কোনো প্রশ্নই নেই, প্লিস নিজেকে দোষী মনে করোনা ।
আচ্ছা ফোন নম্বর টা সেভ আছে আমার !
হ্যাঁ ডিলেট করার দরকার পরেনি কোনোদিন।
তোর নম্বর টা দিবি আমাকে কথা বলতে চাই আবার !
নতুন একটা ফ্রেন্ডশিপ করাই তো যায়,
সে কিছু উত্তর না দিয়েই ফোনটা রিসিভ করে হাত দেখিয়ে চলে গেল।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম, হয়তো এভাবেই একজন পিছনে পরে থাকার মানুষও নিজেকে সামলে নিয়ে তোমাকেই পেছনে ফেলে দেবে একটা দিন ।
আমি আমার কাজ শেষ না করেই বাড়ি ফিরলাম উদাসীন এক মানসিকতা কে সাথে নিয়ে ।