এত জোনাকি, এত আলো অন্ধকার!
অল্প কিছুক্ষণেই এমন মায়াবী নিশ্চুপ নিরবতা যেন ঘিরে ফেলেছে আমায়, আর জড়িয়েছে পরম আদরে ।
শীতল বাতাসের স্পর্শ হাতের দিক দিয়ে ঢুকে পুরো শরীর টাকে ছুয়ে যেন আরও গভীর নেশায় মত্ত করার চেষ্টা করছে বাতাসের এই গভীর প্রচেষ্টাকে আমার আর অব্যাহত করতেও যেন মন চাইছে না, শিরশির করে আমায় ছুয়ে যাচ্ছে শুধুই । ঘরে ফিরতে মন চাইছে না,
আর মনেই হচ্ছিলো না অজানা এই পাহাড়ের কোল কোনদিন আমার অচেনা ছিল বলে ।
এমন অচেনা কেউ যে এতক্ষনে কতটা গভীর ভাবে আমার মনের গহীনে আস্ত একটা নতুন কাহিনীর জন্ম দিয়েছে সেসব কথা বলে বোঝানোর মত মোটেও নয় অথবা শুনলেও বোঝার ক্ষমতা টা আর সবার হয়তোবা নেই ।
দুজনই ভীষন স্তব্ধ ভাবে প্রকৃতির পরম আদর মাখছি গায়ে, স্নেহা আর আমার এই প্রথম ডেট টা যেনো আরও বেশি রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি করছে।
দুজনই অগভীর নেশায় মত্ত তখন, শুধু চোখে চোখে কিছু ঈশারার আলাপ আর আলগা করে ওর হাত গুলো আমার কপাল ছুয়ে দিচ্ছে,
শুধু সহানভূতিতে ভরা শব্দ গুলোই যে মন ভালো করার ওষুধ সেটা বরং একটা মিথ হয়েই থাক আমার কাছে।
রাত বাড়ছে যতই চারিপাশের আলো গুলোও ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে, সাথে জোনাকিদের মেলা যেন আরও জমজমাট হচ্ছে,
এসবের মাঝে একটা বিরক্তিকর আওয়াজ-
হোটেল এর দাদা টা এসে বলে গেলো
"এক্সকিউজ মে ভাইয়া রাত ইগারো হো চুকা হেয় আপলোগ প্লিজ রুম মে আজাইয়ে"
এই শহরের নিয়মই এটা রাত এগারটা অব্দি বাইরে থাকা যায় তারপর রাস্তায় দেখতে পেলে সোজাসুজি পুলিশের গাড়িতে করে থানা।
দুজনই ইতস্তত হয়ে ঘরে ঢুকলাম, জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে শুধুই পাহাড়ের চূড়ায় থাকা মোবাইল টাওয়ার এর আলো গুলো, জোনাকী রাও যেন কোথাও হারিয়ে গেলো কিছুক্ষণেই ।
আমি কোনদিন আমার ভাবনা গুলোকে সম্পূর্ণ ভাবে বোঝার মতন কাউকে পাইনি তবে স্নেহা যেনো এই অভাব টাকেই পুরোপুরি ভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে আজ সেটা ভেবেই নিজেকে ভীষন ভাগ্যবান মনে করছি ।
সে জিজ্ঞেস করে এমন ভালো কেউ বেসেছে তোমায় ?
আমি শুধু তাকিয়ে থাকি ওর চোখের দিকে সেও বুঝে নেয় না বলা অগভীর ভাবনা গুলো কে, যেমনটা আমি চাইতাম, দূজনায় এভাবে সুখী থাকার অঙ্গীকার গুলো অটুট ও জীবন্ত রাখতে আগামীর দিকে বিশ্বাসের পা ফেলা ।।
বিঃদ্রঃ : স্বপ্নাতীত, কাল্পনিক ও বাস্তব জীবনের মর্মস্পর্শী ভাবনার জগৎ থেকে মুক্ত পাওয়া কিছু ভাবনা লেখনীতে তুলে ধরার চেষ্টা ।