Sunday, April 4, 2021

জানিনা আদৌ সম্ভব হবে কি না সেনাদেরও সুখী জীবন যাপনের সুবিধা


আমি তখনও স্বপ্নে বিভোর হয়ে বাঁচতাম এটা করবো ওটা করবো বলে, আসলে ভবিষ্যতে কি করব সেই ব্যাপারে ঠিকঠাক ভাবে নিশ্চিত ছিলাম না ।
কিন্তু হ্যাঁ অনেক গুলো স্বপ্নের কাজ যেগুলো আজও আমার কাছে স্বপ্নের মতোই আছে, সুযোগ পেলে ঠিকই নিজেকে সেই স্থান গুলোতে নিজেকে দেখতেও চাই ।

ছোটো থেকেই শুনে এসছি আর্মি, বিএসএফ এ চাকরি করা মানে ক্যাম্পে ফেরার সময় চোখ থেকে নোনা জল গড়ানো, যার মানেটা এমন বোঝাত যে এমন চাকরি যেখানে সুখ শান্তি বলে কিছু নেই কিন্তু সেই কাজটা কতটা গর্বের খুব কম লোক সেটা হয়ত বোঝে, আজও অনেকেই আর্মি ওয়ালা দের খারাপ নজরে দেখে ।
তবে এটা ভেবেই ভীষন খারাপ লাগে যারা সত্যিই নিজের জীবন দিয়ে আমাদের এই দেশের মানুষের শান্তি কামনা করে তাদের আমরা প্রাপ্য সম্মান টুকুও দিতে পারিনা, বরং তাদের করতে ভুলিনা যারা কোনদিন সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য ভাবতেই পারেনা ।
নেতা মন্ত্রী দের যোগ্যতা অনুযায়ী যতটুকু তাদের প্রাপ্য তার থেকে হাজার গুণ পেতে একটুও তো কমতি থাকেনা বা কোনো সেলিব্রিটি যারা হয়তো আপনি রাস্তায় না খেতে পেয়ে মরে যাচ্ছেন দেখলেও সাহায্য তো দূর, চোখ বুজে চলে যাবে ।
যারা আমাদের মতো পাবলিক এর ভিক্ষে তেই আজ এত বড় স্বপ্নের জগতে বাস করে,
দেশের ভালো কতটুকু করেছে সেটা ভগবান জানে,
অন্যদিকে একজন সেনা নিজের সব স্বপ্ন গুলোকে কবরে রেখে সেনাবাহিনী তে যোগ দিয়েছে সেটাও তার নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে দিনরাত পরিশ্রম করে এবং অবশেষে দেশের এমন বেইমান মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে একবারও পিছুপা হয়না তারপরেও ???

আমার সেই আঙ্কেল টার কথা আজ খুব মনে পড়ে জানিনা কেমন আছে আজ, 
পরিচয় হয়েছিলো আমার স্কুল যাবার সময়
সম্ভবত ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়তাম তখন ঠিকঠাক হিন্দি বলতেও পারতাম না ।
প্রতিদিনের মত সাইকেল করে যাবার পথে আঙ্কেল টার সাথে দেখা হয়, বাস কে দাড় করানোর জন্য আমরা যেভাবে হাত দেখাই সেভাবে হাত দেখাচ্ছিল,
আমি বুঝে গেছি ওনাকে সাইকেলে বসাতে হবে তারপর দশ পনেরো মিনিটের ওই জার্নি তে দুজনের পরিচয় হয় ।
স্কুল পৌঁছেই নিজেকে অনেক খুশি মনে করেছি আর ভেবেছিলাম একদিন আমিও এমন একটা ড্রেস পরে দেশের জন্যে নিজেকে উৎস্বর্গ করে দেব ।
স্কাউট করার সময় থেকে শুনেছিলাম যে আমাদের স্পেশাল ক্লাস করানোর জন্য সেনাবাহিনী থেকে আসবে কিন্তু কোনোদিন তেমনটা হয়নি, বরং স্কাউট নামের কোনো কিছু একটা ছিল বলে সেটাই আজ আমাদের স্কুলে নেই সেদিন থেকেই নিজের মধ্যে থাকা হাজার উত্তেজনা গুলোও যেন চুপটি করে রয়ে গেছে ।
আর যেকারনে সেদিন প্রথমবার কোনো সেনার সাথে কথা বলে আর হ্যান্ডসেক করা টা নিজের কাছে সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল ।
এখন অবশ্য এমন ভাবনা গুলো নেই, তবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা টা কোনোদিন কম হয়নি বরং অনেকগুণ বেড়েছে ।

দেখেছো কাউকে এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই যেসব সেনা নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিলে তাদের হয়ে একটা কথা বলতে ??
না কোনো হেরো এসছে সামনে না কোনো সাংবাদিক নেতা, কেনই বা আসবে এদের জীবনের অর্থ কারোর কাছে নেই শুধু মাত্র তাদের পরিবার ছাড়া,
এমন কিছু বেইমান দেশবাসীর বা নেতাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলবো নিজের সহানুূতিশীল মানুষ টাকে জাগ্রত করুন দয়া করে, এমন ভাবে বারংবার দেশের সেনার বলিদান মেনে নেওয়া যায়না স্যার ।।

No comments: